Wednesday, 31 March 2010

মন্ত্রীদের গাড়িবিলাস : শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের সেবায় সরকারি ৬ গাড়ি, ৩৭ মন্ত্রী-উপদেষ্টা ব্যবহার করেন একাধিক



কাদের গনি চৌধুরী
সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বিলাসী হয়ে উঠেছেন মহাজোট সরকারের মন্ত্রীরা। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাদের একটি করে গাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী নিজের ও দফতরের নামে ৬টি পর্যন্ত সরকারি গাড়ি দখলে রেখেছেন। মহাজোট সরকারের ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে ১৩ জন ছাড়া অন্য সবাই দুই বা ততোধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এমনকি নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রীদের পিএস, এপিএস, পিওরাও ব্যবহার করছেন সরকারি গাড়ি ।
সরকারি পরিবহন পুলের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও তাদের দফতরের নামে ১৫০টি অতিরিক্ত সরকারি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টারা অতিরিক্ত ব্যবহার করছেন ৩৭টি, পিএসরা ৪৩টি, এপিএস ও পিআরওরা ৬৩টি এবং সংসদ সদস্যরা ৩টি। আর এ ১৫০ গাড়ির পেছনে রাষ্ট্রের অপচয় হচ্ছে বছরে ১৩ কোটি টাকারও বেশি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টারা অতিরিক্ত যে গাড়ি নিয়েছেন সেগুলো তাদের পারিবারিক ও দলীয় কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
সরকারি গাড়ি ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে আছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই মন্ত্রী ৩টি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে নিয়েছেন দুটি এবং একটি নিয়েছেন সরকারি পরিবহন পুল থেকে। পরিবহন পুল থেকে নেয়া গাড়িটির নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেটো-গ-২৫৭৭৯০। এ গাড়ির চালকের নাম জহিরুল। মাউশি থেকে নেয়া গাড়ি দুটির নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৯২১৩ ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-১০৪৯। মাউশির দেয়া প্রথম গাড়িটি টিকিউআই প্রজেক্টের। আর দ্বিতীয়টি রংপুর ডিডি অফিস থেকে এনে দেয়া হয়েছে। এটি মন্ত্রীর বাসার কাজে ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী শুধু নিজের জন্যই তিনটি নেননি, তার দফতরের নামে নেয়া হয়েছে আরও ৩টি গাড়ি। এগুলো তার পিএস, এপিএস, জনসংযোগ কর্মকর্তা ব্যবহার করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী পিআরও সুবোধ চন্দ্র ঢালির ব্যবহারের জন্য নায়েম থেকে বড় একটি মাইক্রোবাস আনা হয়েছে। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-৫১৯৬৭৩। এটিও টিকিউআই প্রজেক্টের গাড়ি। নায়েমের এ গাড়ি পিআরওর জন্য নিয়ে আসায় সেখানে তাদের কাজে অসুবিধা হচ্ছে বলে নায়েমের একটি সূত্র জানায়। এ গাড়ির ড্রাইভারের বেতন থেকে শুরু করে তেল খরচ সবই বহন করা হচ্ছে টিকিউআই প্রজেক্ট থেকে।
মন্ত্রীর পিএস এএস মাহমুদ ব্যবহার করছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের গাড়ি। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩২৫৮৮। এ গাড়ির ড্রাইভারের বেতন, তেলসহ যাবতীয় খরচ বহন করতে হচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে। অবিশ্বাস্য হলেও মন্ত্রীর এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর জন্যও গাড়ি দিতে হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃপক্ষকে। ঢাকায় গাড়ি না থাকায় তার জন্য গাড়ি আনা হয়েছে বরিশাল ডিডি অফিস থেকে। মন্ত্রীর এপিএসের জন্য গাড়ি নিয়ে আসায় বরিশাল ডিডি অফিসের কর্মকর্তাদের পরিবহন সঙ্কটে পড়তে হয়েছে।
এছাড়াও টিকিউআই প্রজেক্টের সবচেয়ে ভালো গাড়িটি দখলে নিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি। এমপিরা সরকারি গাড়ি বরাদ্দ না পেলেও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে মেনন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের টিকিউআই প্রজেক্টের দামি গাড়িটি ব্যবহার করছেন। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-১০৫৩।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ ২টি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। তিনি একটি নিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে। অন্যটি নিয়েছেন পরিবহন পুল থেকে। শিক্ষা অধিদফতর থেকে নেয়া গাড়িটির নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-২৫৯৯। আর পরিবহন পুল থেকে নেয়া গাড়িটির নম্বর হচ্ছে গ-২৫-৭৭৯৩। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা তার পিএসের জন্য নিয়েছেন এলজিইডি থেকে একটি গাড়ি, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১৬৩৪৯।
শিক্ষা সচিব ও সচিবের পিএসের জন্যও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে দিতে হয়েছে দুটি গাড়ি। সচিবকে দেয়া গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-২৫৮৭। সচিবের পিএসের গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১৩-৩৬৩৬।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ২টি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। এর একটি নিয়েছেন পরিবহন পুল থেকে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-২৫৭৭৭০। এটির ড্রাইভার কার্তিক চন্দ্র রায়। অপর গাড়িটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের। এটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৫৭৫২৯। এ গাড়ির ড্রাইভার হাজী নুরুল আমিন।
এছাড়াও মন্ত্রীর পিএস, এপিএস নীতিমালা লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ নিয়েছেন।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পরিবহন পুল থেকে বরাদ্দ নিয়েছেন দুটি গাড়ি। এগুলোর নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেট্রো খ-১২-৫১৫৬ ও ঢাকা মেট্রো গ-১১৫১০৮। প্রথমটি চালান ড্রাইভার আশিক, আর দ্বিতীয়টি রেজাউল।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদও সরকারি দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। গাড়ি দুটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৭৩ ও ঢাকা মেট্রো খ-১১৪৪৭১। প্রথমটির ড্রাইভার সোহরাব আর দ্বিতীয়টির মোতালেব।
এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা একাধিক সরকারি গাড়ি দখলে রেখেছেন তারা হলেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমদ রাজু ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৭৫ (পরিবহন পুল/ড্রাইভার জাফর) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১২-৭২৬৪, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঢাকা মেট্রো গ-২৫-০৭৭৭৬ (পরিবহন পুল/ড্রাইভার সালাম) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৮৭৭, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮১ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো গ-১১-৪৮৩১; পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৩ (পরিবহন পুল), ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৪৮৩১ (প্রকল্প); বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৫ (পরিবহন পুল/ড্রাইভার ইব্রাহীম) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৩৮১৭ (এলজিইডি/ ড্রাইভার জগলু); খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা মেট্রো খ-১২-৫১৫৯ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো খ-১১-৮২০৩ (খাদ্য মন্ত্রণালয়), প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৭ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো খ-১৩০৭৫৮ (প্রকল্প); পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৯ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো খ-১২-৮৫৮৩ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব); নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৯৫ (পরিবহনপুল/ড্রাইভার সাহেব) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৪৪৩০; ভূমি প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৯ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা শ-১৪৮ (গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের জন্য কেনা নতুন জিপ); স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৮০৮ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো খ-১৩-২৮০৭; পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৮০১ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৭৯৭৬ (প্রকল্প); পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৮০৩ (পরিবহন পুল) ও অজ-১৭১১৪ (ইউএনডিপি); গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৮০৬ (পরিবহন পুল), ঢাকা মেট্রো খ-১১-৫৪৫৫ (রাজউক); স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৭২ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৫৮৮৮০ (এলজিইডি); প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ মোতাহার হোসেন ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৮১০ (পরিবহন পুল) ও ঢাকা মেট্রো খ-১৩-০৫৬৩ (প্রকল্প); বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এনামুল হক ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৯৬ (পরিবহন পুল), ঢাকা মেট্রো খ-১১-৯২৮৮ (প্রকল্প); পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান ঢাকা মেট্রো গ-২৫-৭৭৮৯ (পরিবহন পুল) ও খ-১৩-১৬৯৯ (প্রকল্প)। সরকারি গাড়ি ছাড়াও এসব মন্ত্রীর ব্যক্তিগত একাধিক গাড়ি রয়েছে।
মহাজোট সরকারের ৫০ জনের মন্ত্রিসভায় একটি করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন—এ ধরনের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। অন্যরা সবাই একাধিক গাড়ি ব্যবহার করেন।
নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে মন্ত্রীরা নিজেরাই শুধু একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন না, তাদের পিএস, এপিএস ও জনসংযোগ কর্মকর্তার জন্যও গাড়ি বরাদ্দ নিচ্ছেন। সরকারি পরিবহন পুল থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার ৪৩ জন পিএসের জন্য গাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্প থেকে এপিএস ও জনসংযোগ কর্মকর্তাদের জন্য নেয়া হয়েছে আরও ৬৭টি গাড়ি। এসব গাড়ির তেল, মেরামত খরচ, ড্রাইভারের বেতন—সবই বহন করতে হচ্ছে সরকারকে।
পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, এখান থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ৪৪টি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের ৪টি, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ৪৮টি, ভারপ্রাপ্ত সচিবদের ১৬টি, অতিরিক্ত সচিবদের ৮৩টি, যুগ্ম সচিবদের ২২২টি গাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে মন্ত্রীরা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তাদের ৩৮ জন পিএসের জন্য সরকারি গাড়ি বরাদ্দ নিয়েছেন। এভাবে মন্ত্রী ও তাদের পিএসরা গাড়ি দখল করায় ২০৮ জন যুগ্ম সচিবকে গাড়ি দেয়া সম্ভব হয়নি পরিবহন পুলের।
সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারি পরিবহন পুলে ৬২৪টি সচল গাড়ি এবং ২৯৬টি অকেজো গাড়ি রয়েছে।
জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিবহন পুলের গাড়িতে সন্তুষ্ট না থাকায় সরকার ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচ করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য ৫০টি বিলাসবহুল পারসোনা প্রাইভেটকার ক্রয় করে। ৪৬ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার মাঝে ইতোমধ্যে এ প্রাইভেটকার বণ্টন করা হয়েছে। ৪টি গাড়ি পরিবহন পুল রিজার্ভ রেখেছে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন হলে বরাদ্দ দেয়ার জন্য। কিন্তু দেখা যায় ৪৬ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পারসোনা কার নিলেও মাত্র ১৩ জন এ গাড়ি ব্যবহার করেন। তারা হলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী গোলাম কাদের, পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক, ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মোহাম্মদ শাজাহান মিয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। অন্যরা ব্যবহার করছেন প্রকল্পের গাড়ি।
১৯৭৩ সালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট প্রণীত হয়। এ অ্যাক্টে স্পষ্ট বলা আছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী অথবা একজন উপমন্ত্রী সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য সরকারিভাবে একটি কার (গাড়ি) পাবেন। যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ জোগাবে সরকার। এছাড়া জরুরি অফিসিয়াল কাজের জন্য কিংবা ঢাকার বাইরে নির্ধারিত কোনো অফিসিয়াল সফরে গেলে অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি তারা ব্যবহার করতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দফতর কিংবা সংস্থা থেকে জিপ গাড়ি সরবরাহ করতে হবে। তবে কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট দফতর বা সংস্থা গাড়ি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রীর জরুরি কাজে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের জিপ গাড়ি কিনতে অর্থ বরাদ্দ দেবে। অথচ এখন মন্ত্রীরা নিজের জন্য একাধিক গাড়িতো নিচ্ছেনই, উল্টো পিএস, এপিএস, পিআরওর জন্যও সরকারি গাড়ি বরাদ্দ নিচ্ছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান অতিরিক্ত সরকারি গাড়ি ব্যবহার প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কি সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্টে বলা আছে। এর বাইরে গাড়ি ব্যবহার আইনসম্মত নয়। কেউ প্রাপ্ত সুযোগের বাইরে গাড়ি ব্যবহার করলে এটি অন্যায় হবে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তিনি বলেন, অনেক সময় মন্ত্রীরা নিজেদের নামে না নিয়ে অন্যের নামে গাড়ি নেন। এটাও বন্ধ করা উচিত।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/01/25331

Sunday, 28 March 2010

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৯ রুটে পরিবহন ধর্মঘট : জনদুর্ভোগ : আ’লীগ নেতার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ



শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৯টি রুটে গতকাল সকাল থেকে শুরু হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এই পরিবহন ধর্মঘট ডাক দেয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
জানা গেছে, পরিবহন মালিকের কাছে আওয়ামী লীগের এক নেতা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
শাহ আমিন চেয়ারকোচের মালিকের কাছ থেকে কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়াম লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ডাকা এ ধর্মঘট চলাকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ মোটরস্টেশন, তেওয়ারীহাট, চন্দনাইশের দোহাজারী, বাগিচারহাট, খান হাট, পটিয়ার বিভিন্ন মোটরস্টেশনে শত শত শ্রমিক পরিবহন বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসে এবং চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের শাস্তি দাবি করেন। ধর্মঘট চলাকালে সাতকানিয়ার কেরানীহাটে শত শত শ্রমিক জড়ো হয়ে রাস্তার উপর টায়ার পুড়িয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়। ফলে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুছা জানান, চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দুই দিন ধরে শাহ আমিন চেয়ারকোচ চলতে না পারার ক্ষতিপূরণ, পরিবহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। এদিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটে যখন শ্রমিকরা টায়ার পুড়িয়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীবাহী গাড়ির পথরোধ করে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছিল তখনই সাতকানিয়া ভ্যানে অবস্থানরত থানা পুলিশ সদস্যরা ছিল মূলত নীরব দর্শকের ভূমিকায়। পুলিশের এহেন ভূমিকা দেখে অনেক যাত্রীই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধর্মঘট যতদ্রুত সম্ভব মীমাংসা করা উচিত।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/29/24794

চাঁদপুরে মানবসম্পদ উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট




গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর
সাক্ষরজ্ঞান আছে এমন লোকদের সৃজনীমূলক কাজে দক্ষতা বাড়িয়ে মানবসম্পদে পরিণত করার প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারের বিদেশ থেকে আনা ঋণের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। বেসরকারি সংস্থা ‘ডরপ’ জেলার ৫টি উপজেলায় গত নভেম্বর মাস থেকে এ ধরনের লুটপাট চালাচ্ছে। সরকারের পক্ষে যারা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকি করার কথা তারাও অজানা কারণে নীরবতা পালন করছে।
গত প্রায় ১ মাস চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ওই প্রকল্পের জন্যে বাড়ির ছাদে, ঘরের বারান্দায়, সরকারের পরিত্যক্ত গোডাউনে, কোথাও কারও বসতঘরের একাংশে এবং অনেকের অর্ধনির্মিত পরিত্যক্ত ঘরকে কেন্দ্র দেখানো হয়েছে। সরকার যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে, সেই প্রশিক্ষণ কাজ একেবারেই না করে টাকা-পয়সা লুট করছে তারা। অনেক কেন্দ্র মাস কিংবা সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে দিন ও রাতে দু’শিফটের মধ্যে এক শিফটে ৫/৬ জন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। অন্য শিফট কখনোই চলে না। অধিকাংশ কেন্দ্র সহায়ক/সহায়িকা জানে না তাদের মূল কাজ কী। গৃহনির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে, বিবিধ সুযোগ-সুবিধা কী তাও তাদের জানা নেই। অনেক স্থানেই ঘরের মালিক হচ্ছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি, স্ত্রী শিক্ষিকা এবং তার সন্তান কিংবা নিকটাত্মীয়কে সহায়ক রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন ও উপজেলা সুপারভাইজার সপ্তাহে একবারও তাদের কেন্দ্র পরিদর্শন করেননি বলে জানা গেছে। জেলা সহকারি পরিচালক (উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো) মীর হোসেন এসব তথ্য জেনে রীতিমত হতবাক! তিনি ঘোষণা দিয়েছেন এখন থেকে প্রকল্পের কাজ ঠিকমত না হলে তাদের বিল ও বেতন ভাউচারে স্বাক্ষর করবেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর শাহীন খান বলেছেন, এখন থেকে তিনি বিষয়টি ভালোভাবে দেখবেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায়ই প্রকল্পের কাজ গত নভেম্বর ’০৯ মাস থেকে চালু হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ এবং হাজীগঞ্জ উপজেলায় কাজ করছে ‘ডরপ’। কচুয়ায় নারী মৈত্রী, শাহরাস্তিতে পিআরডিএস এবং মতলব দক্ষিণে সিএইচডি কাজ করছে। সেসব উপজেলার চিত্রও একই রকম। প্রতিটি উপজেলায় ৩৪টি করে কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মহিলা ও পুরুষের দুটি পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। প্রতি দলে ৩০ জন করে লোক নেয়া হয়েছে। মহিলা দলের ক্লাস বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। পুরুষদের সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। প্রতি কেন্দ্রে ১টি করে পরিচালনা কমিটি, ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা সহায়িকা রয়েছে। ১৭টি কেন্দ্রের জন্য ১ জন সুপারভাইজার, প্রতি উপজেলায় ১ জন সমন্বয়কারী এবং ১ জন জেলা সমন্বয়কারী রয়েছে। কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি ছাড়া সমন্বয়কারী ও কেন্দ্র সহায়ক/সহায়িকারা বেতনভুক্ত। প্রতিটি কেন্দ্র নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বই ইত্যাদির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬২ হাজার ৫৫০ টাকা। সে হিসেবে চাঁদপুরের ৮টি উপজেলায় শুধু কেন্দ্র প্রস্তুতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৪ কেন্দ্র। ৮ উপজেলা=২৭২টি কেন্দ্র। এ হিসেবে ২৭২টি কেন্দ্রে মোট অর্থ ব্যয় হচ্ছে ২৭২–৬২৫৫০=১ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা। এরই মধ্যে উল্লিখিত টাকার প্রায় সিংহভাগ তারা ব্যয় দেখিয়েছে। অথচ ২০ ফুট সাইজের একটি ঘরও তারা নির্মাণ করেনি। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ হাজার টাকা। ৮ হাজার টাকা মূল্যের ১টি করে টিভি দেয়ার কথা থাকলেও গত ৫ মাসে তা সরবরাহ করা হয়নি। ২ হাজার ৫০০ টাকায় ২০ সেট বই দেয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩০০ টাকায় ২ সেট বই দেয়া হয়েছে। আসবাবপত্র কেনায়ও অনিয়ম করা হয়েছে। যেভাবে চেয়ার-টেবিল দেয়ার কথা তা দেয়া হয়নি। স্টিলের আলমিরা এবং রেডিও দেয়া হয়নি অনেক কেন্দ্রে। ট্রেড বিষয়ক কোর্সে ২০টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও দু’একটি কেন্দ্রে শুধু টেইলারিং ও হাউস ওয়্যারিং ছাড়া আর কিছুই তারা শেখাচ্ছে না।
সরেজমিন অনেক কেন্দ্রই বন্ধ পাওয়া গেছে। কোথাও দু’একজনকে পাওয়া গেলেও তারা কেউই উপরোল্লিখিত কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কখনও কখনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসার আগে তাদের মোবাইল ফোনে আগাম বার্তা দেয়া হয়। শুধু ওই দিনের জন্য তারা কেন্দ্রের হাজিরা খাতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হাজির রাখেন। সাধারণত তারা পাঠ্যবই চেতনায় ১, ২ ও ৩ পড়িয়ে থাকেন। এদের কোনো কেন্দ্রেই ইস্যুভিত্তিক ১২৫টি অনুসারক গ্রন্থ নেই। এগুলো পড়ানোর মতো অনেক সহায়ক/সহায়িকার দক্ষতাও নেই। মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা-উত্তর ও অব্যবহৃত শিক্ষা প্রকল্প-২-এর বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জেলা সমন্বয়কারী আবদুল মালেক জানান, ২৫ হাজার টাকায় একটি কেন্দ্র নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া ওই টাকায় ২০% স্থানীয় কমিটির দেয়ার কথা, বাকি ৮০ ভাগ টাকা একত্রে সংস্থা দিচ্ছে না। যার কারণেই বাড়ি বাড়ি থেকে মানুষের ঘর, কাচারি মাসিক হারে ভাড়া নিয়ে কেন্দ্র করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রের টিভি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রে রেডিও দেয়া হয়েছে। নিম্নমানের ফার্নিচার দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। কেন্দ্র নিয়মিত পরিদর্শন না হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় মাত্র ২ জন সুপারভাইজার। ১ জনকে ১৭টি কেন্দ্র দেখতে হয়। ২ হাজার টাকা বেতন পেয়ে প্রতি মাসে সব কেন্দ্র দেখা খুবই কষ্টকর।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/29/24796

এলজিইডির ১০১ গাড়ি ক্ষমতাধরদের সেবায়



কাদের গনি চৌধুরী | ঢাকা, সোমবার ২৯ মার্চ ২০১০, ১৫ চৈত্র ১৪১৬, ১২ রবিউসসানি ১৪৩১
সরকার ও সরকারি দলের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গাড়ি সেবা দিচ্ছে সরকারি সংস্থা এলজিইডি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর অর্থাত্ এলজিইডি নামের এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্পের ১০১টি গাড়ি বর্তমানে মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালীরা ব্যবহার করছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ঠিক মতো পরিচালনা করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয় এসব গাড়ির তেল খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ড্রাইভারের বেতন সবই দিতে হচ্ছে এলজিইডির প্রজেক্ট থেকে। এ খাতে বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের গাড়ি ব্যবহারকারীদের তালিকায় মন্ত্রী, এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আমলা এমনকি সরকার সমর্থক কলামিস্টের নামও রয়েছে। একইভাবে মন্ত্রণালয়ের পিও ব্যবহার করছেন এলজিইডির গাড়ি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে ওইসব ব্যক্তিকে ব্যবহারের জন্য এলজিইডিকে গাড়ি সরবরাহ করতে বাধ্য করেছে। ওইসব গাড়ি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যবহারের কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এই ১০১টি গাড়ির অধিকাংশই টয়োটা, টয়োটা ভিএক্স এবং টয়োটা প্রাডো।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্যবহারের জন্য নিয়েছেন দুটি টয়োটা ভিএক্স। গাড়ি দুটির নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৩৭৭৯ ও ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৬০৯৯। প্রথম গাড়িটি চালান এলজিইডির ড্রাইভার খালেদ এবং দ্বিতীয়টি চালান ড্রাইভার মজনু। মন্ত্রী হিসেবে তাকে বরাদ্দ দেয়া পরিবহন পুলের গাড়িটি তিনি ফেরত দিয়েছেন বলে ড্রাইভার খালেদ জানান।
সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম গাড়ি নিলেও এলজিইডির কাছ থেকে ড্রাইভার নেননি। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৫১৬৩। আইন মন্ত্রণালয় অফিশিয়াল চিঠি দিয়ে এলজিইডির কাছ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের জন্য গাড়িটি নিয়েছেন বলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) জানান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম নিয়েছেন ৩টি গাড়ি। একটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রী নিজে। ওই গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৩৭৭৮। এ গাড়ির ড্রাইভার খালেদ জানান, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া গাড়িটি তিনি ফেরত দিয়েছেন। বাকি দুটির একটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রীর পিএস সাইফুল ইসলাম বাদল (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৬৪৭০)। আরেকটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-১২৬১)।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক নিয়েছেন ৩টি। একটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রী নিজে। ওই গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-১৮৯৪। এ গাড়ির ড্রাইভার কামরুজ্জামান জানান, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া গাড়িটি তিনি ফেরত দিয়েছেন। বাকি দুটির একটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রীর পিএস মিজানুর রহমান (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২২৮৬)। আরেকটি ব্যবহার করেন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১৯-১৩৫০)।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ বিশেষ কর্মকর্তাকেও দেয়া হয়েছে এলজিইডির গাড়ি। তারা হলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম হানিফ (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৮০৪৫), প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৮০৪৬), প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম শাকিল (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-২১-৯১৬৫), প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদের পিএস মান্নান (গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৬৩৪৯)। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জন্য দেয়া হয়েছে আরও তিনটি গাড়ি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানও নিয়েছেন এলজিইডির প্রজেক্টের গাড়ি। বাণিজ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল ফারুক খানকে দেয়া হয়েছে একটি নতুন গাড়ি। দুজন সংসদ সদস্যকেও প্রজেক্টের গাড়ি দিতে হয়েছে। তারা হলেন দেওয়ান ফরিদ গাজী এমপি ও রহমত উল্লাহ এমপি।
সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম গাড়ি নিলেও এলজিইডির কাছ থেকে ড্রাইভার নেননি। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৫১৬৩। আইন মন্ত্রণালয় অফিশিয়াল চিঠি দিয়ে এলজিইডির কাছ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের জন্য গাড়িটি নিয়েছেন বলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) জানান।
এলজিইডির প্রজেক্টের আরেকটি গাড়ি দেয়া হয়েছে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-১১-৭০৯৮। এ গাড়ির ড্রাইভার আমিরুল জানান, গাফ্ফার চৌধুরী দেশের বাইরে থাকলে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশ মতো অন্যদের ডিউটি করেন তিনি। বর্তমানে গাফ্ফার চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় নজির চৌধুরী নামের প্রবাসী এক বাংলাদেশীকে গাড়িটি ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে। নজির চৌধুরীকে এ গাড়িটি গাফ্ফার চৌধুরীর কথামতো দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পিও আবদুল খালেকও সরকারি গাড়ি পেয়েছেন।। মন্ত্রীর দফতরে কাজ করেন তাই তারও একটি সরকারি গাড়ি চাই। মন্ত্রীর দফতরের চাপে পিও খালেককেও দিতে হয়েছে প্রজেক্টের একটি গাড়ি। যে গাড়িটির জন্য সরকারের অহেতুক ব্যয় হচ্ছে বছরে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এ টাকা ব্যয় হচ্ছে তেল, রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রাইভারের বেতন বাবদ। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যোগ করলে এ ব্যয় দ্বিগুণ হবে। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তাদের পিএস-এপিএস ছাড়াও যুগ্মসচিব থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যন্ত ২৯ কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রজেক্টের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৪৯ কর্মকর্তাকে এলজিইডির বিভিন্ন প্রজেক্টের গাড়ি দেয়া হয়েছে। সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সার্ভিস দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে আরও ২৮টি গাড়ি। এলজিইডির চিফ ইঞ্জিনিয়ার একাই ব্যবহার করেন ৫টি গাড়ি। গাড়িগুলো চালান ড্রাইভার কুদ্দুস, আলীম ও মনসুরুল। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করেন দুটি, বাকি তিনটি ব্যবহার করেন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সদস্যরা।
এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রতিটি গাড়ির জন্য দৈনিক ২০ লিটার অকটেন দিতে হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরকে। মাসে ৬০০ লিটার অকটেন বাবদ দিতে হয় ৪৪ হাজার টাকা। এছাড়াও ড্রাইভারের বেতন বাবদ ১০ হাজার টাকা, রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ধরা হয় মাসে ৬০ হাজার টাকা। এ হিসাবে গাড়িগুলোর পেছনে বছরে ৯ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়। আর এ টাকা অঘোষিতভাবে আদায় করা হয় প্রজেক্টগুলো থেকে। ফলে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয়। বর্তমানে এলজিইডিতে অর্ধশতাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের পিপি অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে প্রকল্পের কাজে গাড়িগুলো বরাদ্দের কথা থাকলেও সরকারের বিভিন্ন লেভেলের লোকজনকে খুশি রাখতে চিফ ইঞ্জিনিয়ার গণহারে গাড়ি বরাদ্দ দিচ্ছে। অথচ গাড়ির অভাবে অনেক স্থানে প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো পরিদর্শন করতে পারছেন না কর্মকর্তারা। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মকর্তাদের প্রকল্প পরিদর্শনে যেতে হয়। সূত্র জানায়, গাড়ি ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো, প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হবে। প্রজেক্ট শেষ হলে গাড়ি পরিবহনপুলে ফেরত দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কাকে কোন গাড়ি দেবে। কিন্তু এলজিইডি এর কিছুই করছে না। যিনি গাড়ি বরাদ্দ পেতে পারেন তাকে যেমন দেয়া হচ্ছে, তেমনি সরকারি গাড়ি পাওয়ার অধিকার যাদের নেই তাদেরও বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) জাহাঙ্গীর আলম আমার দেশকে জানান, সরকার চাইলে আমরা তো গাড়ি বরাদ্দ না দিয়ে পারি না। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রজেক্টের গাড়ি বরাদ্দ দেয়া যৌক্তিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিশিয়াল চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়গুলো আমাদের কাছ থেকে গাড়ি নিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের জন্য এলজিইডির গাড়ি বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় অফিশিয়াল চিঠি দিয়ে গাড়িটি বরাদ্দ নিয়েছে। সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে কোন যুক্তিতে গাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার চাইলে আমরা দিতে বাধ্য।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, আগেও এলজিইডির বিভিন্ন প্রজেক্টের গাড়ি মন্ত্রী ও সচিবরা ব্যবহার করতেন। কিন্তু এবারের মতো গণহারে প্রজেক্টের গাড়ি বাইরে কখনও বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/29/24889

Saturday, 27 March 2010

সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খাতের ২০০ কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারা চূড়ান্ত

Manobzamin | Sunday, 28 March 2010
দীন ইসলাম:
দেশের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। ফেটে যাওয়া জায়গায় প্রলেপ দেয়া হবে। এজন্য বর্তমান অর্থবছরের শেষ দিকে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খাতের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এজন্য তড়িঘড়ি করে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দরপত্রের সব কাজ শেষে কার্যাদেশ দেয়া হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খাতে এ বছর জিওবি বাবদ ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন শেষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সুপারিশ ও মন্ত্রণালয়ের আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন সরকারি ক্রয় সংক্রানত্ম মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন বাকি রয়েছে। গত ১৫ই মার্চ মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন চেয়ে একটি প্রসত্মাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও রেলপথ বিভাগ। ওই কমিটির অনুমোদন মিললেই ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাসত্মা রড়্গণাবেড়্গণে অতীত অভিজ্ঞতা নেই এমন কোম্পানিগুলোর বিপরীতে কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এজন্য নানা কাহিনী চালু হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে। ওদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মূল্যায়ন কমিটি দু’টি কোম্পানির দরপত্র দলিল বাতিল করলেও (নন-রেসপনসিভ) নানা অজুহাতে বাতিল দুই কোম্পানিকেই কাজ দেয়ার সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়। এজন্য বাদ পড়েছে যোগ্য বিবেচিত কোম্পানিগুলো। অভিযোগ রয়েছে, যোগাযোগমন্ত্রীর এক আত্মীয়, এক হুইপের ভাই ও কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদার সড়ক রড়্গণাবেড়্গণ কাজের দরপত্রের দফারফা করছেন। এ সিন্ডিকেটের চাপাচাপিতেই রড়্গণাবেড়্গণ খাতের অর্থ খরচের জন্য তড়িঘড়ি করে দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্র জমা দেয়ার পরই ভাগবাটোয়ার চূড়ানত্ম প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো সারসংড়্গেপ সূত্রে দেখা গেছে, ১১টি কোম্পানিকে প্রায় দু’শ’ কোটি টাকার কাজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেসার্স ইসমাইল হোসেন (তিনটি প্যাকেজ), ইন্ট্রাকো (বিডি) এসোসিয়েটস লিমিটেড, ডবিস্নউজিএমইসি-আরসি জেভি, পূবালী কস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড, সিপিসি- ডিয়ানকো জেভি, আইসিসি লিমিটেড (দুটি), টিএসএল-আরআইবি জেভি, এসইএল- এমএসএ জেভি, এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, মেসার্স পপুলার আজাজ আনোয়ার জেভি ও মেসার্স মো. মাহফুজ খানকে (দু’টি প্যাকেজ) কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫টি প্যাকেজের বিপরীতে ১৮৭ কোটি ৯৪ লাখ ৬৯ হাজার ২৮৪ দশমিক ৫৮ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর আগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১৫টি প্যাকেজের বিপরীতে ১৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৪ টাকার কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করে। মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ করা ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের দু’টি প্যাকেজের কাজ ও সিপিসি-ডিয়ানকো জেভির দরপ্রসত্মাব বাতিল করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর বদলে মেসার্স পপুলার আজাজ আনোয়ার জেভিকে একটি ও মেসার্স মো. মাহফুজ খানকে দু’টি প্যাকেজের কাজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তিন প্যাকেজের জন্য সাড়ে ২৪ কোটি টাকার সবচেয়ে বড় কাজ দেয়া হচ্ছে এ দুই কোম্পানিকে। বাতিল করা কোম্পানিগুলোর ড়্গেত্রে বলা হয়েছে, সাধারণ মেরামত কাজের জন্য ওইসব কোম্পানির নির্ধারিত অভিজ্ঞতা নেই। এজন্য তাদের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ই অক্টোবর উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সড়ক রড়্গণাবেড়্গণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১০ই ডিসেম্বর ওই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়। শেষ দিনে ১৫টি প্যাকেজের বিপরীতে ১০২টি দরপত্র পাওয়া যায়। এরপর ১৩ই ডিসেম্বর দরপত্র মূল্যায়ন শুরম্ন করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মূল্যায়ন কমিটি। এরপর অতি দ্রম্নততায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ১৭ই ডিসেম্বর মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। মূল্যায়ন কমিটি দরপত্রদাতাদের দাখিল করা ১০২টি দরপত্রের মধ্যে ৯২টি দরপত্র গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া নয়টি দরপত্র অগ্রহণযোগ্য ও একটি দরপত্র ডিসকোয়ালিফাই করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো সারসংড়্গেপে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কে পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় নিয়মিতভাবে রড়্গণাবেড়্গণ কাজ করা হয়। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও গতিশীল রাখার জন্য সড়কের পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স কাজ করা একানত্ম প্রয়োজন। ২০০৯- ২০১০ অর্থবছরে পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্সের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কগুলোর রড়্গণাবেড়্গণের জন্য ১৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪৯৯ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হবে। এ কাজ বাংলাদেশ সরকার এবং জেডিসিএফের অর্থায়নে শেষ করা হবে। চলতি অর্থবছর পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স খাতে জিওবি বাবদ ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেডিসিএফ উৎস থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংশোধিত বাজেটে পাওয়া যাবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। তাই এ ক্রয় প্রসত্মাবে কোন বিদেশী অর্থ নেই।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&task=view&id=9500&Itemid=83

তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের জমি দখল করে মার্কেট : দোকান ভাগ করে নিল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী




শামসুস সালেহীন
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যোগসাজশে রেলওয়ের তিন বিঘা জমি দখল করে বিশাল মার্কেট করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর, শীর্ষ সন্ত্রাসী, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা, শ্রমিক নেতা এবং রেলওয়ের কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন মার্কেটের ১৬০টি দোকান। ওই মার্কেট এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রেলওয়ে ঢাকা জোনের সূত্র জানিয়েছে, তেজগাঁও কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম ওরফে হাতকাটা কাশেম, শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা শামসু ওরফে বাঘ শামসু এবং মকবুল রেলওয়েকে খাজনা দিয়ে ৬৫/১৫০ বর্গফুট জমির বরাদ্দ নিয়ে প্রায় তিন বিঘা জমিতে ১৬০টি আধাপাকা দোকানঘর তুলেছেন। দোকানগুলো ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তার সহযোগী পুলিশ, এলাকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক নেতা এবং রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে।
ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে জানিয়েছেন, রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মার্কেটের ১৬০টি দোকানের মধ্যে যারা দোকানঘর পেয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান ৩টি, তার পিএস আলমগীর ২টি, শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিক ৪টি, তার সহযোগী পিচ্চি বাবুল ১টি, মোজাম্মেল ১টি, তালুকদার মনির ১টি, আবুল কালাম ২টি, স্টেশনের কামরুল ১টি, করিম ১টি, অপু ১টি, ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি জিল্লুর রহমান ওরফে জিল্লু ২টি, কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি মকবুল ৬টি, কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নেতা ফজলুর রহমান ১৫টি, কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাতকাটা কাশেম ৬টি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ সহ-সভাপতি বশির আহম্মেদ ওরফে বশির ২টি, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক মোট ২টি, শ্রমিক লীগের সাবেক নেতা বাঘ শামসু ২টি, সফিউল্লাহ শফি ৩টি, বাস স্টেশনের সলু ২টি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ১৫টি, শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ওমর ফারুক ২টি এবং কিনে নিয়েছেন আরও ১টি, রেলওয়ে পুলিশের এসআই নজরুল নিজে এবং বিভিন্ন অফিসারকে দেয়ার নামে ১৫টি, আন্ডারগ্রাউন্ড একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তথাকথিত সাংবাদিক নামে তিনজন ৩টি এবং ঢাকা মহানগর (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইরান পেয়েছেন ১টি দোকান। এছাড়াও মহাখালী বাস টার্মিনালের নেতা, স্থানীয় সন্ত্রাসী, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতা, ট্রাক স্ট্যান্ডের মালিক সমিতির নেতা ও কয়েকটি ট্রান্সপোর্টের মালিক-নেতাও দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তারা আরও জানিয়েছে, এই তালিকা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে রয়েছে।
রেলওয়ে ঢাকা জোনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তেজগাঁও এক নম্বর রেলগেটের পাশে রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি জমির খাজনা দিয়ে বরাদ্দ নেয়। তারা ওই জমিতে কাঁচা দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করেন। রেলওয়ের প্রয়োজনে রেলওয়ের জমি থেকে দোকান উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এরই নির্দেশের প্রেক্ষিতে ওই জমিতে অবস্থানকারী তেজগাঁও এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সব দোকান ১৯৯৯ সালে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে রেলওয়ের ওই জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
সুত্র আরও জানায়, উচ্ছেদের পর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তেজগাঁও এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহমুদুল আলম মন্টু তাদের পুনর্বহালের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তারা পাকিস্তান আমল থেকে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও সিএডি সাইডিং সংলগ্ন এলাকায় আইনানুযায়ী খাজনা দিয়ে ব্যবসা করছিলেন। রেলওয়ের প্রয়োজন দেখিয়ে ১৯৯৯ সালে ওই জমি থেকে সব দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা পথে বসেন। উচ্ছেদকৃত জমি রেলওয়ের ব্যবহারে না লাগলে তা রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতিকে আইনানুযায়ী আবার বরাদ্দ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু রেলওয়ের ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান চূড়ান্ত না হওয়ায় রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আবেদন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনার জন্য রাখা হয়।
তেজগাঁও এক নম্বর রেলগেটের রেলওয়ে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ের উপসচিব (রেল উন্নয়ন) শাহ মোঃ ইমদাদুল হক লিখিত নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সিএডি সাইডিং সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি রেলওয়ে নিরাপত্তা দেয়ালের অভ্যন্তরে উচ্ছেদকৃত খালি ভূমি ক্ষতিপূরণ খাজনা দেয়ার ব্যবস্থা চলছে। রেলওয়ের সব নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিও) মোহাম্মদ আমিন বদলি হওয়ার পর আগের তারিখে (ব্যাক ডেটে) স্বাক্ষর করে কিছু ব্যক্তির কাছে ক্ষতিপূরণ খাজনা আদায় করে তাদের বরাদ্দ কাগজপত্র দিয়েছেন। ২০০৯ সালের ৮ নভেম্বর সিইও (পূর্ব) ক্ষতিপুরণ ফি আদায় বন্ধ ও সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অবকাঠামো অপসারণ ও উচ্ছেদের জন্য ঢাকার বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ওই কর্মকর্তা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন না করে উেকাচ নিয়ে ক্ষতিপূরণ ফি আদায় করে লাইসেন্স দিয়েছেন বলে রেলওয়ের উপসচিব (রেল উন্নয়ন) শাহ মোঃ ইমদাদুল হকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তিনি চিঠিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি সম্পত্তির দখল রক্ষার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান দোকান বরাদ্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করে আমার দেশকে জানান, তার কাছ থেকে এলাকার বিএনপি নেতারাও এখন দোকান চাইছেন। তার পিএস দোকান পেয়েছেন কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানান। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল থানার ওসি ওমর ফারুক তার নামে দোকান বরাদ্দের কথা অস্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, তিনি ব্যবসা করতে নয়, এখানে আছেন চাকরি করতে। কে ওই মার্কেট করছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা তিনি জানেন না বলে জানান। কমলাপুর রেল পুলিশের এসআই নজরুলকে গতকাল বারবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/28/24777

আবাসিক হলের কক্ষে ছাত্রলীগের কার্যালয়!



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আসাদুর রহমান, Kalerkantho ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪১৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৩১, ২৮ মার্চ ২০১০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কক্ষে ঢুকে দক্ষিণ দিকের দেয়ালে তাকালে চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এর নিচে লম্বা এক টেবিল। চারপাশে অনেক চেয়ার। টেবিলের ওপর কাগজপত্র। পশ্চিম দিকের দেয়াল ঘেঁষে বেঞ্চ। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের ১০১ নম্বর কক্ষ, হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যালয়। এখানেই চলছে সাংগঠনিক কার্যক্রম।
একই অবস্থা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলেও। এ হলে ছাত্রলীগের কার্যালয় ১৬২ নম্বর কক্ষে। মাদার বখ্শ হলের মতো এখানেও সাঁটানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। সভা করার জন্য এখানে রয়েছে কনফারেন্স টেবিল। আছে বসার সুব্যবস্থা। হলের ছাত্ররা জানান, ১০-১২ দিন আগে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ওই কক্ষটিকে সংগঠনটির কার্যালয় বানায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক কর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলেই আমাদের অফিস বানাতে চেয়েছি। কিন্তু মিডিয়াতে এলে হয়তো তা আর সম্ভব হবে না।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগ এখন শিবিরের পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। দলাদলি, মারামারি, চাঁদাবাজির পর এবার তারা শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে রাজনৈতিক কার্যালয় বানাতে শুরু করেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে ভুগছে।
সাকের আল-মাহমুদ নামে এক শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। কিন্তু ছাত্রলীগকে শিবিরের ভূমিকায় দেখতে চাই না।'
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রেদোয়ান আহমেদ শুভ্র বলেন, 'আমি বিষয়টি জানতাম না। যদি ঘটনা সত্যি হয়, তবে এ ব্যাপারে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মাদার বখ্শ হলের ছাত্রলীগ কর্মী কাজী শাহনেওয়াজ টোকন আবাসিক কক্ষে সংগঠনের কার্যালয় বানানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'এটা আসলে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। বঙ্গবন্ধু বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি যে কেউ লাগাতে পারে।'
রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বলেন, 'এগুলোকে ছাত্রলীগের কার্যালয় বলা যাবে না। এর পরও আমি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।'
মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ বলেন, 'আমার হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা একটি কুইজ প্রতিযোগিতা করার জন্য ওই রুমটা সাজিয়েছে। তারা সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে না।'