Wednesday, 29 June 2011

মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ দেয়া ১৯০ জনই ভুয়া





শামসুস সালেহীনমুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়া ১৯০ জনই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তারা মুক্তিযোদ্ধার জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। ১৯৭১ সালে ১৯০ জনের অনেকেই ছিলেন দুধের শিশু। তখন তাদের বেশিরভাগই ছিলেন মায়ের কোলে। মুজিবনগর কর্মচারী কোটায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি পাওয়া ১৯ জনকে এরই মধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরও ১১ জনকে সাসপেন্ড করার লক্ষ্যে তাদের নাম পাঠানো হয়েছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামতের জন্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ে ২০০৯ সালে ১৯০ জনকে মুজিবনগর কর্মচারী কোটায় চাকরি পাওয়া কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বয়স ছিল ৩ থেকে ৭ বছর। চাকরি দেয়ার সময় তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বলা হয়েছে, মুজিবনগর কর্মচারীরা কেউ কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে পানি খাইয়েছেন, এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে খবর পৌঁছানো ইত্যাদি নানান কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন ছিলেন তিন বছরের শিশু। সে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের পানি খাওয়ালেন অথবা খবর পৌঁছালেন এই নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিস্মিত হয়েছেন। ওই সময়ের এমন শিশু অনেক রয়েছেন, যারা মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় চাকরি পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মামলায় যে যার মতো নাম বসিয়ে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রার আমার দেশকে জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা নয় এমন ১৯০ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে মোট ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এদের মধ্যে আছেন নকলনবিস, দলিল লেখক, হোমিও চিকিত্সক, পল্লী চিকিত্সক, শিক্ষক, মুদি দোকানি ইত্যাদি পেশার মানুষ। মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে আত্তীকরণকৃতদের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিবন্ধন অধিদফতরের বর্তমান মহাপরিদর্শক (আইজিআর) মুন্সী নজরুল ইসলামের নিজ জেলা নড়াইল ও বরিশালের। অন্য জেলার মাত্র দু’একজন রয়েছেন। গত ১৯ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভা হয়। সভায় মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। এটা বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তি করতে বলে সংসদীয় কমিটি ২০০৯ সালের ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করেছে বলে সূত্র জানায়। সভায় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রারদের ৩ জনকে প্রথম সাসপেন্ড করা হয়। তারা হলেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার আবুল বাশার, যার জন্ম তারিখ ১৯৬৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তার চাকরিতে যোগদানের তারিখ ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর। বরগুনার পাথরঘাটার সাব-রেজিস্ট্রার নুরুল হকের জন্ম তারিখ ১৯৬৮ সালের ১৫ জুন। তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। ভোলা জেলার রাধাবল্লভের সাব-রেজিস্ট্রার বাদল কুমার বিশ্বাসের জন্ম ১৯৬৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর। তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর। ভূমি রেজিস্ট্র্রেশন বিভাগেও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো অনেক সাব-রেজিস্ট্র্রার অবসরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবার চাকরিতে ফিরেছেন। দুই বছর চাকরির মেয়াদ বাড়ার সুযোগে তারা ভালো সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিসে পোস্টিং নিয়ে ঘুষসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দেখিয়ে তারা চাকরির মেয়াদ দু’বছর বাড়িয়ে নেন। পাশাপাশি অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এটাকে সরকারের একপেশে সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটা প্রশাসনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনে এক সময়ের উচ্চমান সহকারী পরবর্তীতে মুজিবনগর স্টাফ কোটায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদানকারী আই,জি,আর, (চলতি দায়িত্ব) মুন্সী নজরুল ইসলাম। তার আপন ছোটভাই প্রায় তিন বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। অথচ আই,জি,আর পদে জুডিশিয়াল সার্ভিস থেকে জেলা জজ বা যুগ্ম সচিব পদের কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মুন্সী নজরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দু’বছর চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে আই,জি,আর-এর পদ দখল করে আছেন। প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে আদালতের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছেন মাসদার হোসেন। তিনি আইজিআর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুই মাস। ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল থেকে একই বছরের ৩ জুন পর্যন্ত আইজিআর-এর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে আইজিআর-এর চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মুন্সী নজরুল ইসলাম। তার ভাতিজা বর্তমানে কর্মরত ঢাকার সদর সাব-রেজিস্ট্রার মুন্সী রুহুল ইসলাম। তারা চাচা-ভাতিজা দু’জনেই মুজিবনগর সরকারের উদ্বৃত্ত হিসেবে চাকরি নিয়েছেন। ভাতিজা মুন্সী রুহুল ইসলামের জন্ম হয় ১৯৫৯ সালের ৩০ নভেম্বর। অর্থাত্ ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ পর্যন্ত তার বয়স ১১ বছর ৩ মাস ২৬ দিন। চাকরিতে চাচা আইজিআর মুন্সী নজরুল ইসলাম সাব-রেজিস্ট্র্রার পদে যোগ দেন ১৯৭৮ সালের ১০ অক্টোবর। পাশাপাশি ঢাকা সদরে মুন্সী রুহুল ইসলাম সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন ১৯৯৭ সালের ২৩ জুলাই। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন মেয়াদে নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) পদে দায়িত্ব পালন করেন ২৭ জন। সাব-রেজিস্ট্রার মাত্র দু’জন আইজিআর (মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন অধিদফতর) পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তদের একজন এ,ওয়াই,এ,ম, আনোয়ারুল হক এবং বর্তমানে এই পদে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মুন্সী নজরুল ইসলাম। মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রার পদে ২০০৯ সালে ১৯০ জন ছাড়া আরও ৮০ জন সাব-রেজিস্ট্রার দেশের বিভিন্নম্ন সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিসে কাজ করছেন। তাদের অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। যাদের বয়স মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ থেকে ১০ বছর ছিল। ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিসে রয়েছেন, তাদের একজন বর্তমান আইজিআরের আপন ভাতিজা মুন্সী রুহুল ইসলাম। অপরজন হলেন তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্র্রার আবুল কালাম আজাদ। তার জন্ম তারিখ ১৯৬০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তিনি এই পদে যোগ দিয়েছেন ১৯৯১ সালের ২ মার্চ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা দু’জনই মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী ছিলেন না বা মুক্তিযুদ্ধে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ তারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করেছেন কর্মস্থলে।মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বা সহায়তার নামে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই ভুয়া। জাল সনদ ও কাগজপত্র দাখিল করে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করে তারা সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি পেয়েছেন। তাদের অধিকাংশেরই মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ৩ থেকে ১১ বছর। এ ব্যাপারে নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) মুন্সী নজরুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না

শীতলক্ষ্যা নদীর মাটি কেটে বিক্রি করছেন প্রভাবশালীরা










সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের আটি মৌজার সোহরাব অয়েল মিল ও মনোয়ারা জুট মিলের পাশে, সাইলো এবং আদমজী ইপিজেডের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায়, মাটিগুলো বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়।এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দেয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জনৈক শাহজাহান প্রধান বাদল ওরফে শাহজালাল বাদল, নুরুজ্জামান জজ, ডা. শহীদুল্লাহ, জাহাঙ্গীর হোসেন, এম এইচ মনির, খোকন দেবনাথ ও বাসেদ মিয়া আটি মৌজা দখল করে বালুর ব্যবসা করে আসছেন। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু আটি মৌজায় সরেজমিন গিয়ে কোনো ধরনের বালু ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উপরন্তু আটি মৌজায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। একইভাবে সাইলো গোডাউন ও আদমজী ইপিজেডের পূর্বপাশের মাটি কেটে ট্রলার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। সরেজমিন আটি এলাকায় গিয়ে ট্রাক ও ট্রলারে মাটি কেটে নিতে দেখা গেছে। মাটি কাটায় নিযুক্ত লেবার এবং প্রভাবশালীদের নিযুক্ত বিপ্লব নামের এক যুবক জানায়, বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা আলমগীর কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া ও প্রচার সম্পাদক তাজিম বাবু এই মাটি কাটাচ্ছেন। প্রতি ট্রাক মাটি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। গত ক’দিন ধরে মাটি কাটার ফলে বড় ধরনের ডোবার সৃষ্টি হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর ওই অংশে। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র চিঠিতে যে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক (বন্দর) আলমগীর কবির আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অংশীদারিভিত্তিতে শীতলক্ষ্যার মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদীর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার অবৈধ প্রস্তাব আমরা প্রত্যাখ্যান করায় আলমগীর তার অফিসার সাইফুল ইসলামকে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কোনো সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় ওই মামলা রেকর্ডভুক্ত হয়নি। শীতলক্ষ্যা নদীর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার ব্যাপারে আলাপ করলে বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক (বন্দর) আলমগীর কবির জানান, আমি ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে মাটি কাটার ব্যাপারে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করে ব্যবস্থা নেব। অপরদিকে এলাকাবাসী জানায়, অপরিকল্পিতভাবে শীতলক্ষ্যার তীরের মাটি কাটায় ছোট-বড় ডোবা সৃষ্টি হলে বর্ষা মৌসুমে শীতলক্ষ্যার তীর ভেঙে আস্তে আস্তে মাটিগুলো শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝপথে গিয়ে পড়বে। এতে শীতলক্ষ্যা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে। এমনকি নৌযানগুলো চলতে গিয়ে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। প্রভাবশালীদের নিযুক্ত যুবক বিপ্লবের কাছে মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে কি-না জানতে চাইলে সে জানায়, লিখিত কোনো অনুমতি নেই। তবে মাটি কাটার জন্য ডিসি অফিস থেকে মৌখিক অনুমতি নেয়া হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন
।

Tuesday, 31 May 2011

সরকারের সঙ্গে ব্যবসা : বিদ্যুত্ এক মন্ত্রীর রাস্তা সেতু অন্যজনের












এম আবদুল্লাহ
বর্তমান সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। বিদ্যুত্ খাতের প্রকল্পে একচ্ছত্র আধিপত্য এক মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের আর দেশের যোগাযোগ খাত তথা সড়ক, সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আরেক মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের দখলে। দুই মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বর্তমান সরকারের আমলে ২২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কাজ পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে গৃহীত বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে ওই দুই মন্ত্রী তাদের প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন। দু’জনই ঠিকাদার থেকে মন্ত্রী হওয়ায় তাদের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠানও মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দরপত্র দাখিল করতে সাহসই পাচ্ছে না।
মন্ত্রী হওয়ার পর দৃশ্যত কোম্পানির পদ ছাড়লেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি এখনও ব্যবসা দেখভাল করছেন তারা। আর সরাসরি কোম্পানিতে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের স্ত্রী, কন্যা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। অবশ্য অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। পরিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচ্য দুই মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বর্তমান সরকারের সময়ে ২ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ করায়ত্ত করেছে। এর মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার এবং যোগাযোগমন্ত্রীর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ৫শ’ মেগাওয়াটের অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কাজ। সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের আমলে ৩টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কাজ পেয়েছে যোগাযোগমন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান। এ কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রচ্ছন্ন প্রভাব কাজ করেছে বলে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে। চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট, সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট ও ঘোড়াশাল ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগমন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান জড়িত।
সদ্য ভিত্তি স্থাপনকৃত রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ইটাল-থাই’র বাংলাদেশী এজেন্ট এখন কে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ শিকদার গ্রুপের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, ইটাল-থাই’র বাংলাদেশী এজেন্ট যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কোম্পানি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দরপত্রে অংশগ্রহণকারী শিকদার-কেসিসি জেভির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অস্বচ্ছতার মাধ্যমে কারিগরিভাবে তাদের অযোগ্য দেখানো হয়েছে। কারিগরি প্রস্তাব পুনরায় মূল্যায়নের দাবি উপেক্ষা করে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার কাজটি দেয়া হয়। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করার দাবিও আমলে নেয়া হয়নি। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ ইটাল-থাইকে দেয়ার কারণে দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ মূল্যায়ন কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই যোগাযোগমন্ত্রীর অধীনস্থ হওয়ায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান অবিচারের শিকার হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলাকালে প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম-সচিব মো. আব্দুল কাদিরকে সরিয়ে এমএ ওয়াদুদকে বসানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দরপত্র মূল্যায়নে বড় ধরনের কারসাজি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মন্ত্রী সিঙ্গাপুর হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে ব্যাংককের নভোটেল-লোটাস হোটেলে ইটাল-থাই’র সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ইটাল-থাই বাংলাদেশে মফিজ আহমেদ ভূঁইয়ার এজেন্সি বাতিল করে। ইটাল-থাই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে স্থানীয় উেসর বিড বন্ড দিয়েছে। এতেও বিদেশি এ কোম্পানির সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে বলে জানানো হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার কাজে অস্বচ্ছতা নেই। আর ইটাল-থাই’র সঙ্গে তিনি যুক্তও নন।
যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিআরবিসি নামের কালো তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানিকে কাজ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। কিন্তু তার এই ইচ্ছায় বাদ সাধে মিডিয়া। ব্যাপক লেখালেখির পর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কাজ দেয়ার প্রস্তাবের সমালোচনা করে প্রথম দফায় তা বাতিল করে দেয়। পুনঃদরপত্রে যে কোম্পানিটিকে ৭৭ কোটি টাকা বেশি দরে কাজ দেয়া হয়েছে সেটিরও স্থানীয় প্রতিনিধিত্বে মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও যোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, নতুন করে কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠান সাকোর কোনো সম্পর্ক নেই।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসন জানান, মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ‘সৈয়দ আবুল হোসেন কোম্পানি’ সাকো (ঝঅঐঈঙ) থেকে পদত্যাগ করেছেন। কোম্পানির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মন্ত্রীর নিজের নামের কোম্পানি এবং স্ত্রী ও কন্যারা সেই কোম্পানির কর্পোরেট পরিচালক থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা কতটা যুুক্তিযুক্ত জানতে চাইলে যোগাযোগমন্ত্রী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, তাতে কী হয়েছে? ওরা পরিচালক, ওরাতো সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করতেই পারে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ বানোয়াট এবং যারা অভিযোগ করে তারা বাটপাড়—লিখে দেবেন।
উল্লেখ্য, সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রী হওয়ার কয়েক মাস পর সাকোর বোর্ড অব ডাইরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নূরুল হক এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বোর্ডের কর্পোরেট ডাইরেক্টর হিসেবে আছেন মন্ত্রীপত্নী খাজা নার্গিস হোসেন এবং দুই কন্যা সৈয়দা রুবাইয়্যাত হোসেন ও সৈয়দা ইফফাত হোসেন।
সামিটের একাধিপত্য : এদিকে বর্তমান সরকার আমলের তিনটি বৃহত্ বিদ্যুত্ কেন্দ্রসহ মোট ৮টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েছে সামিট। বিবিয়ানা-১, বিবিয়ানা-২ এবং মেঘনাঘাট-২— এ ৩টি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রতিটির উত্পাদন ক্ষমতা ৩৩০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট। তিনটির কাজই পেয়েছে সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্কেন্টাইল করপোরেশন লিমিটেড। সঙ্গে নামকাওয়াস্তে রাখা হয়েছে মার্কিন কোম্পানি জিই এনার্জিকে। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার) নীতিমালা অনুযায়ী স্থাপিতব্য এই তিনটি কেন্দ্রের ক্ষেত্রেই সামিটের অংশীদারিত্ব ৮০ শতাংশ। আর আমেরিকান কোম্পানি জিই এনার্জি এলএলসির ২০ শতাংশ। সরকার ২২ বছর ধরে এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুত্ কিনবে। এই তিনটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুত্ কেন্দ্র তিনটির জন্য পিডিবি’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানটি।
মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পর বিনা দরপত্রে কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের হিড়িক পড়লে সামিট গ্রুপ নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কাজে অযোগ্য ঘোষিত হয়। তারপরও পিডিবিকে দিয়ে তাদের প্রস্তাবের বৈধতা দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া হয়। পরে সামিট মদনগঞ্জে ১০২ মেগাওয়াট ‘কুইক রেন্টাল’-এর কাজ পেয়েছে। খুলনা পাওয়ার কেম্পানির ১১৫ মেগাওয়াট ও নোয়াপাড়ায় খানজাহান আলী পাওয়ারের ৪০ মেগাওয়াট ‘কুইক রেন্টাল’ও সামিটের। এছাড়াও সামিট ফার্নেস অয়েলে চালিত সৈয়দপুর ১০৪ ও শান্তাহার ৫২ মেগাওয়াট আইপিপির কাজ পেয়েছে।
সামিট গ্রুপ এর আগে মোট ৩২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করছিল। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আশুলিয়া পাওয়ার প্লান্টে ৪৫ মেগাওয়াট, নরসিংদী পাওয়ার প্লান্টে ৩৫ মেগাওয়াট, কুমিল্লা পাওয়ার প্লান্টে ২৫ মেগাওয়াট, উল্লাপাড়ায় ১১ মেগাওয়াট, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির আওতায় কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ায় ৩৩ মেগাওয়াট এবং রূপগঞ্জে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। সামিট গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লি. (কেপিসিএল) খুলনায় বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করছে।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহত্ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিনিয়ানা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সামিট-জিই এনার্জি ক্ষমতার জোরে প্রাকযোগ্যতা অর্জন করে। পরে দাতা সংস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। নতুন করে বিবিয়ানা ৩৩০-৪৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রাকযোগ্যতার প্রস্তাব আহ্বান করা হলে ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল ৭টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের যোগ্যতার দলিলপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য বিবেচনা করা হলেও ৩টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দলিল (আরএফপি-রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) কেনে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। মূল্যায়নে পরিকল্পিতভাবে মালয়েশিয়ার ওয়াইটিএল পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল বারহাডকে নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা হয়। সামিট-জিই জেভিকে বিবিয়ানা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের একমাত্র বৈধ প্রস্তাবদাতা করার পরিকল্পনা থেকেই এটা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ, প্রধান উদ্যোক্তা (লিড স্পন্সর) হিসেবে সামিটের এ ধরনের বৃহত্ কেন্দ্র স্থাপনের পূর্বঅভিজ্ঞতাই নেই।
বিবিয়ানা ৩৩০-৪৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের (দ্বিতীয় পর্যায়) জন্য গত বছরের ২ মে ১২টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান প্রাকযোগ্যতার দলিলপত্র দাখিল করে। ৮টি প্রতিষ্ঠান প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ৫টি দরপত্র দলিল (আরএফপি) কিনলেও ১৪ অক্টোবর মাত্র ৩টি দরপত্র জমা হয়। নানা কারসাজি ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে এ কেন্দ্রের কাজও সামিটকে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রচলিত নিয়মে বড় বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ট্যারিফ ছোট বিদ্যুত্ কেন্দ্রের তুলনায় কম হয়। কম্বাইন্ড সাইকেলে ট্যারিফ কম হয়। এছাড়া বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ যত বেশি হবে দর তত কম হবে। কিন্তু সামিটের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। ১৫ বছর মেয়াদি জামালপুর ডুয়েল-ফুয়েল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মুতিয়ারা-পাওয়ারপ্যাক জেভির চেয়ে সামিটের ২২ বছর মেয়াদি বিবিয়ানা-১ ও ২ এবং মেঘনাঘাট-২ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ট্যারিফ বেশি। বেশিসংখ্যক উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে জামালপুরে প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া গেছে। কিন্তু বিবিয়ানা-১ ও ২ এবং মেঘনাঘাট-২ বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সামিটের তেমন কোনো প্রতিযোগী রাখা হয়নি।
বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান সামিট গ্রুপে তার কোনো ডাইরেক্টরশিপ নেই দাবি করে বলেন, আমার কোনো ব্যবসা নেই, আমি শুধুই রাজনীতিক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি মন্ত্রী হয়েছি বলে কি আমার ভাইয়েরা ব্যবসা করতে পারবে না? বিশ্ববিখ্যাত মা-বাবার সন্তান হিসেবে তারা সব ভাই এখনও একসঙ্গে আছেন এবং একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে গর্ব করেন বলেও জানান তিনি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী সামিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করলেও একই সঙ্গে বার বার সামিট গ্রুপকে ‘আমাদের কোম্পানি’ উল্লেখ করে সরকারের সঙ্গে ব্যবসা ও একের পর এক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের কাজ পাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সামিট কাজ পেয়েছে যোগ্যতাবলে। বৃহত্ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শর্ত শিথিল করে সামিটকে কাজ দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাজ না পেলে অভিজ্ঞতা হবে কিভাবে। সাংবাদিকদের কারণে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারে না, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআই চেয়ারম্যান : দুর্নীতির রিপোর্টের কারণে কেবল বাংলাদেশেই মামলা হয়েছে

















স্টাফ রিপোর্টার

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান হিউগেট লাবেল বলেছেন, দুর্নীতি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের কারণে একমাত্র বাংলাদেশেই ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দিলে এটি কার্যকারিতা হারাবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তাসহ কোনো বিশেষ শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে আলাদা মাপকাঠিতে বিচার করা যাবে না। এটি করলে কমিশন কার্যকারিতা হারাবে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন সফররত চেয়ারম্যান। কোনো একটি শ্রেণীকে বিশেষ সুবিধা দেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন টিআই চেয়ারম্যান লাবেল। তিনি বলেন, অন্যদের তুলনায় কোনো একটি শ্রেণীকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে দেখতে পেলে মানুষ সরকার ও সংস্থার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন টিআই চেয়ারম্যান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১১ বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিচারক, বিচার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করার আগে সরকারের অনুমতি নেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে বিলে। সংসদে অনুমোদন হলে এটি আইনে পরিণত হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে। আইনটি পাস হলে দুদকের নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
জলবায়ু ফান্ডের দিকে টিআই’র নজরদারি থাকবে জানিয়ে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনগত সংস্কার নিয়ে যে খেলা চলছে তা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী।
দেশে দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনতে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন এবং তা জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি
।

শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের আড়ালের চেষ্টা করছে সরকার : এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার

ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সরকার শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। শেয়ারবাজার নিয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রথমে প্রকাশ করার কথা বলার পরও এই রিপোর্ট প্রকাশে অহেতুক কালক্ষেপণ করা হয়েছে। জনগণের চাপের মুখে রিপোর্টটি প্রকাশ করে এখন বলা হচ্ছে, এটি অপূর্ণাঙ্গ। তাই নতুন করে তদন্ত হবে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে এসব করার পরিণাম শুভ হবে না। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ভোটার আগামীতে আর মহাজোটকে ভোট দেবে না। গত রোববার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক পার্টি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এইচ এম এরশাদ বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। মানুষ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতিতে সবাই দিশেহারা। প্রতিটি জিনিসের দাম শতকরা ১৭ ভাগ বেড়েছে। এখনও সময় আছে, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকারের ভিত নড়ে যাবে। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মানুষ যাতে দু’বেলা ভালোভাবে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে সেজন্য বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে। মজুরি কমিশন গঠন করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।
তিনি মহাজোটের শরিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টির মূল্যায়ন এবং নিজের মামলা প্রত্যাহার সম্পর্কে বলেন, সরকার যদি জাতীয় পার্টিকে তাদের একাংশ মনে করে তাহলে অবশ্যই তারা আমাদের মূল্যায়ন করবে। মামলাও প্রত্যাহার করবে। সরকারের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। দেশের ও দলের স্বার্থে প্রয়োজনে যে কোনো সময় আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই—জাতীয় পার্টির মাঝে আমি বেঁচে থাকতে চাই।
সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে এরশাদ বলেন, মানুষ এখনও জাতীয় পার্টির শাসনামলের কথা মনে রেখেছে। গত বিশ বছরে তারা একাধিক সরকার দেখেছে। কেউ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই আবার মানুষ দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার দেখতে চায়।
নারীনীতি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার বলছে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করবে না। এসব না বলে সরকার পরিষ্কার করে বলে দিলেই পারে যে নারীনীতিতে কোরআন অনুযায়ী সম্পদের মালিকানার বিষয়টি ফয়সালা করা হবে। সরকার এসব না করে উল্টো পথে হাঁটছে। নানা ধরনের টালবাহানা করছে। মুক্তাঙ্গনে মিছিল-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারি করছে। এসব করে লাভ হবে না। মুক্তাঙ্গন মুক্ত জায়গা। মুক্তাঙ্গন বন্ধ করে দিলে অধিকার আদায়ে জনগণের কথা বলার তো আর কোনো জায়গা থাকবে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ এবং মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক পার্টির সভানেত্রী আনোয়ারা বেগম।

Tuesday, 26 April 2011

সখীপুরে বঙ্গবন্ধু ক্যাডেট কলেজের নামে জমি দখল
















আনোয়ার কবির, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

সখীপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কালমেঘা। ওই গ্রামের ভেতর দিয়ে বাঁশবাড়ি পাকা রাস্তা ধরে যেতেই চোখে পড়ে ‘বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল ক্যাডেট কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি’ লেখা একটি সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডের উপরের অংশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি শব্দটিও জুড়ে দেয়া আছে। সাইনবোর্ড থেকে ১শ’ গজ উত্তর দিকে যেতেই দেখা হয় মন্টুর সঙ্গে। পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই তিনি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান। তিনি জানান, প্রজেক্টের ইনচার্জ হচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিষ্ঠানটি কে করছেন এর জবাবে তিনি এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের ১০ জন মন্ত্রী জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা সুব্রত রায় এর দেখাশোনা করছেন। তবে খান মোহাম্মদ হোসেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তিনি এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাননি। চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর চাইলে তিনি নম্বর দেয়া নিষেধ বলে জানান। তবে তিনি প্রজেক্টটি বৈধ দাবি করে চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে তার ফোন নম্বরসহ এর সব কাগজপত্র পরে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান।
প্রজেক্টের ভেতর গিয়ে দেখা যায়, ১১ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারা কেউ এ এলাকার নন। প্রকল্পটির ভেতরে অর্ধনির্মিত ৪টি টিনসেড বিল্ডিং, ১টি পুকুর, নামহীন একটি ভিত্তিপ্রস্তর রয়েছে। একটি ভবনের একাংশে মন্টু মিয়াসহ কর্মচারীরা থাকেন। ওই ভবনের ওপরে জাতীয় পতাকা উড়ছিল। একটু পরেই পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয়।
জমির মালিক ও থানা পুলিশের একটি প্রতিবেদন এবং স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়াসিকহেলা গ্রামের খান মোহাম্মদ হোসেন বিগত জোট সরকারের আমলে ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অ্যান্ড ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্ঠার জন্য সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের আবু আহাম্মদ এবং তার দুই ছেলে আবদুল বারেক ও আবদুল মান্নানের ১৭ একর জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর কেএম হোসেন একর প্রতি ৭ লাখ টাকা হারে ওই তিন জমির মালিকের ১৭ একর জমি কিনবে এই মর্মে ১৫০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। শর্ত ছিল, তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি দলিল করে নেবেন এবং জমির মালিকরা ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবেন। কিছুদিন পর কেএম হোসেন জমির মালিকদের জানান, আমেরিকা, ইরান, আবুধাবি, সৌদিআরবসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে ৫/৭শ’ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য প্রতিষ্ঠানের ৩০% নির্মাণ কাজ দেখাতে হবে। তার কথামত ওই জমিতে ৪টি টিনসেড বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ ৪০% সম্পন্ন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পরিশোধের চাপ দিলে তাদের চেক প্রদান করা হয়। চেকটি ডিজওনার হলে তারা মামলা করেন। ঢাকা জজকোর্টে এ সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।
এক পর্যায়ে কেএম হোসেন নিজেকে বিএনপির প্রথম সারির নেতা দাবি করে জমির মালিকদের স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্পে জমির টাকা পরিশোধ করার কথা লিখে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি দলিল করে দেয়ার হুমকি দেন। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে কেএম হোসেন পিছু হটেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম বদল করে ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি নাম দেয়া হয়। বিচারপ্রতি হাবিবুর রহমান খানকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করানো হয়। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কেএম হোসেন পুনরায় প্রতিষ্ঠানটি করতে ব্যর্থ হন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কেএম হোসেন তৃতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল ক্যাডেট কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটির নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা পরিচয় দিয়ে এই বলে হুমকি দিচ্ছেন যে, সাইনবোর্ড ভাঙলে জমির মালিক ও এলাকাবাসীকে জেল খাটানো হবে।
পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেএম হোসেন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন জড়িত রয়েছেন বলে এলাকার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
জমিটি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা চলছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেএম হোসেন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন জমির মালিক আ. মান্নান ও আ. বারেককে। নিজের জমি বেহাত হওয়ার পরও এখন তারা প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আ. মান্নান জানান, তাকে মেরে ফেলার জন্য কয়েকবার সন্ত্রাসী ভাড়া করে আনা হয় কিন্তু তিনি বুঝতে পেরে সরে পড়াতে বেঁচে গেছেন। বিভিন্ন সময় তাকে র্যাব দিয়ে ক্রসফায়ার করানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কেএম হোসেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু হানিফ মিয়া বলেন, বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন নাম দেয়ায় মনে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান নয়, জমি দখলই মূল উদ্দেশ্য। কালমেঘা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথম দিকে মনে হয়েছিল মহত্ উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি করা হচ্ছে। আসলে কেএম হোসেনের উদ্দেশ্য ভালো নয়। মূলত বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জমির মালিক আবদুল মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠান করার নামে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় আমাদের জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য বাড়িতে র্যাব-পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। কেএম হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তিনি থানায় ডায়েরি করেছেন বলেও জানান।
ওসি মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, কেএম হোসেন একজন ভণ্ড, প্রতারক। তিনি অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান বলেন, বিএনপি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে আমি পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল রেসিডেন্সিয়াল ক্যাডেট কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি করায় বিষয়টি আমার কাছে গোলমেলে মনে হয়। এজন্য নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। আপনি ওই প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু আমি সম্মতি দেইনি।
ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কেএম হোসেন বলেন, জমির টাকা পরিশোধ করা হলেও মিউটিশন জটিলতায় দলিল করা হয়নি। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি আমি সরকারকে উপহার দিয়েছি। তিনি আরও জানান, বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় এমপি কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মির্জা আবদুল জলিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের মহাসচিব বিদ্যুত্ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সজল আহমেদ এ প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা।

শ্রমিকের তালিকায় আ’লীগ নেতাদের নাম : কর্মসৃজন প্রকল্পের হাজার কোটি টাকা লুটপাট

ইলিয়াস খান

অতি দরিদ্রদের ‘কর্মসৃজন প্রকল্প’র এক হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। শ্রমিকদের স্থলে নিজেদের নাম ঢুকিয়ে, বেশি সংখ্যক শ্রমিকের জায়গায় হাতেগোনা কয়েকজন দিয়ে কাজ করিয়ে পকেটস্থ করা হচ্ছে এ অর্থ। কাজ না পেয়ে দরিদ্রদের অবস্থা আরও সঙ্গিন হয়ে পড়ছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্প গ্রহণ করে। এজন্য প্রতি বছর এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১০ সালের বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাটের রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি বছরের বরাদ্দ এক হাজার কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। শুধু দলীয় লোকজন নয়, পকেট ভারী হচ্ছে সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ।
দেশের ৬৪ জেলার ১৩৩ উপজেলায় এ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৫৫ হাজার। চলতি বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে এ বিভাগে বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি টাকা। বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা অফিস সূত্র জানায়, ২০১১ সালে এ জেলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৮ কোটি ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ভোল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোলা জেলায় বরাদ্দ ৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া বরগুনা জেলায় ৪ কোটি ৫০ লাখ, ঝালকাঠি জেলায় ৩ কোটি, পটুয়াখালী জেলায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার এবং পিরোজপুর জেলায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এভাবে প্রকল্পভুক্ত সব জেলায়ই নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। সব মিলিয়ে সারাদেশে বরাদ্দের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা।
তালিকায় আছে মাঠে নেই : নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিক সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে মজুরি পাবেন দৈনিক ১৫০ টাকা। কাজ করবেন ৪০ দিন। নিজের নামে ব্যাংকে একাউন্ট থাকবে। ওই একাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন শ্রমিকরা। তবে সরেজমিন মাঠ পর্যায়ে যে চিত্র পাওয়া গেছে তাতে শ্রমিক নেই বললেই চলে। যদিও হাজিরা
খাতায় শ্রমিকের কোনো অভাব নেই। বরিশাল জেলার সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে কাজ শুরু হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে। সম্প্রতি কাজ দেখার জন্য সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নে গেলে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। সকাল সাড়ে ৯টায় ৩নং ওয়ার্ডে গিয়ে ২৮ শ্রমিকের মধ্যে পাওয়া যায় ৯ জনকে। বাকিরা প্যান্ট পরে ঘুরছেন। কেউ নেতা কেউবা আবার আওয়ামী পরিবারের সদস্য হওয়ার সুবাদে কার্ডধারী। ওয়ার্ডের জালাল সরদারের তিন ছেলে যথাক্রমে আলামিন সরদার, জাহিদ সরদার, জামাল সরদার, মুজাহার খানের ছেলে শামিম খান, ইউনিয়নের যুবলীগের সদস্য তারিকুল ইসলাম, গনি হাওলাদারের ছেলে আমিনুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী ও তার স্ত্রী মরিয়ম, হোসেন গাজী, আ. হক, হোসেন চাপরাশি, সোহরাব চাপরাশির ছেলে কাশেম চাপরাশি, আমির আলী—এদের সবার নাম তালিকায় আছে অথচ তারা মাঠে নেই। ২৮ জনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কার্ডধারী ভুয়া। হাজিরা খাতায় সবার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। গত বছরে এ ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ছিল ২১৮টি কার্ড। এ বছর আরও ৭৬টি কার্ড বাড়ানো হয়েছে।
কড়াপুর ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ৬৬৫টি কার্ড। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে পাওয়া গেছে মোট ১১৯ শ্রমিক। সকাল ৯.১০ মিনিটের সময় যাওয়া হয় ২নং ওয়ার্ডে। এ ওয়ার্ডে শ্রমিক থাকার কথা ৮৬ জন। বাস্তবে পাওয়া যায় ২৪ জন। সেখানে উপস্থিত ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি কায়কোবাদ রাসেল স্বীকার করলেন তাদের দুর্বলতার বিষয়টিও। তিনি জানান, তালিকায় আমাদের কিছু লোকের নাম আছে সেটা তো দোষের কিছু নয়। এরপর যাওয়া হয় ১নং ওয়ার্ডে। কাজের তদারকিতে আছেন আ’লীগ নেতা আ. গনি। এখানে ৭৬ শ্রমিকের মধ্যে পাওয়া গেল মাত্র ১৪ জনকে। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন আ. গনি। ৮নং ওয়ার্ডে গিয়ে চোখে পরে ভয়াবহ চিত্র। সেখানে শ্রমিকদের তালিকায় যারা আছেন তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খোকন, সম্পাদক ফজলুল হক, যুবলীগের সভাপতি কামাল সরদার, সম্পাদক মো. রফিক, যুবলীগ নেতা মন্নান খাঁ, মনিরের নাম শ্রমিকের তালিকায়। এ ওয়ার্ডে মাঠে কাজ করছেন ১২ জন। অন্যান্য ওয়ার্ডে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র। ২নং ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২৪ জন ছাড়া কোনো ওয়ার্ডেই ১৪ জনের বেশি শ্রমিক পাওয়া যায়নি। কাশীপুর ইউনিয়নের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। ৩নং ওয়ার্ডে গিয়ে পাওয়া যায় মাত্র ১১ শ্রমিক। ৬নং ওয়ার্ডে ২৪ জন, ৫নং ওয়ার্ডে ১৯ জন। অথচ এই ইউনিয়নে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৫০০ কার্ড।
গণ্যমান্যরা সবাই আওয়ামী লীগের : কর্মসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে এবারও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দলীয় বিবেচনায়। কোথাও আওয়ামী লীগের বাইরে গণ্যমান্য ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরিশালসহ সব জায়গার পরিস্থিতি একই রকম। সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. আমিনুল ইসলাম টিপু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক। অপর গণ্যমান্য মো. আনসার আলী হাওলাদার জেলা কৃষক লীগ নেতা, সমাজসেবী হিসেবে আছেন তাছলিমা বেগম। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমানের স্ত্রী। ইমাম মাওলানা মো. মাহফুজ ওলামা লীগ নেতা। জাগুয়া ইউনিয়নে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন স্কুল শিক্ষক রুস্তম আলী ফরাজী ইউয়িন আওয়ামী লীগের সভাপতি, মো. মনিরুজ্জামান শ্রমিক লীগের সহসভাপতি, মো. নাজমুল হোসেন মনি যুবলীগ সভাপতি। সমাজসেবী মোসা. রেহেনা ইয়াসমিন মহিলা লীগ নেত্রী, ইমাম মাওলানা আ. করিম তালুকদার ওলামা লীগ নেতা। চাঁদপুরা ইউনিয়নে স্কুল শিক্ষক জিএম ফারুক আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, গণ্যমান্য মীর বাহাদুর হোসেন কামাল যুবলীগ সভাপতি, মো. সানোয়ার পারভেজ আওয়ামী লীগের সদস্য, সমাজসেবী মাহামুদা বেগম আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং ইমাম মাওলানা আনিসুর রহমান ওলামা লীগ সভাপতি। চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক মো. মকবুল আহম্মেদ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি, সমাজসেবী মোসা. সালমা আক্তার আওয়ামী লীগ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটনের স্ত্রী, ইমাম সামসুল হক ওলামা লীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান, ইউনুচ সেরনিয়াবাত গণ্যমান্য ব্যক্তির তালিকায় আছেন। কাশীপুর ইউনিয়নে স্কুল শিক্ষক আবু আহমেদ আল মামুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, গণ্যমান্য মো. আনিসুল ইসলাম তোতা আওয়ামী লীগের সম্পাদক, আবুল হোসেন নেতা, সমাজসেবী জেসমিন আক্তার মনি মহিলা লীগ নেত্রী। এভাবে প্রত্যেক ইউনিয়নে যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি হয়েছে তাতে স্থান পেয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী কিংবা তাদের স্ত্রীরা। উল্লেখ্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে স্কুল শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের থাকার কথা।
চেয়ারম্যান মেম্বাররা ঠুঁটোজগন্নাথ : এবারে কর্মসৃজন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটিতে চেয়ারম্যান মেম্বারদের কোথাও সদস্য পর্যন্ত রাখা হয়নি। ৯ সদস্যের কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও তালিকায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ঘর ফাঁকা। ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ অথচ তাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না চেয়ারম্যান, মেম্বাররা। এ বিষয় জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম বরিশাল বিভাগের সভাপতি মো. হোসেন সিকদার বলেন, দুর্নীতি লুটপাট পাকাপোক্তভাবে করার জন্যই আমাদের দূরে রাখা হয়েছে। নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েও এলাকার কাজে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই— এমনটা শুধু দুঃখজনকই নয় লজ্জারও বটে।
ব্যাংক একাউন্টও আ’লীগ নেতাদের নামে : সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিকের নামে ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে প্রতি মাসে কিংবা সপ্তাহ পরপর তাদের টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু দলীয়করণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেই একাউন্টও খোলা হয়েছে আ’লীগ নেতাদের নামে। সত্যতা যাচাইয়ে গতকাল ফোন দেয়া হয় সোনালী ব্যাংক রায়পাশা কড়াপুর শাখায়। ওই ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য যে হিসাব খোলা হয়েছে (নং-২০০০১০২৭) তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির নেতাদের নামে। এমনটা স্বীকার করে ওই ব্যাংকের ম্যানেজার মোতালেব হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা নেতাদের বুঝিয়ে বলেছি। তারা যদি প্রত্যেক শ্রমিকের নামে একাউন্ট না করেন তাহলে টাকা দিয়ে আমরা বিপদে পড়তে রাজি নই। কারণ নিয়ম রয়েছে কেবল শ্রমিকরাই টাকা উঠাতে পারবেন। এখন যদি নেতারা একাউন্ট খোলেন তাহলে তো বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের লুটপাট : প্রত্যেক শ্রমিকের নামে ব্যাংকে একাউন্ট করার কথা থাকলেও তা নেই। একাউন্ট খোলা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নামে। বরাদ্দকৃত অর্থ এরাই তুলে থাকেন। এ টাকা তুলতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিতে হয়। এজন্য তাদের ঘুষ দিতে হয়। একইভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান একজন সরকারি কর্মকর্তা। কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে বেশি শ্রমিকের বরাদ্দ পাস করতে এসব কর্মকর্তার সহযোগিতা নিতে হয়। এজন্য তাদের দিতে হয় বড় অংকের টাকা। একটি সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা এ টাকার ভাগ পেয়ে থাকেন। এভাবেই দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ আওয়ামী লীগ নেতা, সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তারা লুটপাট করছেন।