03/05/2010
জামালপুর প্রতিনিধি
কোটি কোটি টাকা লুটপাট আড়াল করতে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে ৯১ লাখ টাকা দামের গাড়ি ও দুটি এসি উপঢৌকন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিত্সুবিসি কোম্পানির দামি এ গাড়ি এবং দুটি এয়ারকন্ডিশনার শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গাড়ির নম্বর জামালপুর ১১-০০২০। তবে মন্ত্রী এখনও গাড়ির চাবি বুঝে নেননি।
সূত্র জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে যমুনা সার কারখানা বন্ধ করে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ওভারহোলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। এই ওভারহোলিংয়ের নামে শ্রমিক নিয়োগ ও মালামাল কেনা বাবদ কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার উপস্থিতিতে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। শুক্রবার যমুনা সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) এক অভিষেক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তারাকান্দিতে এলে মঞ্চে তার উপস্থিতিতেই বক্তৃতায় এসব অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু মন্ত্রী ওভারহোলিংয়ের নামে দুর্নীতি বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি অনুষ্ঠানে।
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল্লাহ এবং স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওভারহোলিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট আড়াল করতেই মন্ত্রীকে এসব উপঢৌকন দেয়া হয়। এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ বলেন, ওভারহোলিংয়ের নামে যমুনা সার কারখানায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়। এ টাকা ভাগ হয় সিবিএ এবং বিসিআইসির সর্বস্তরের কর্মকর্তার মধ্যে। গতকাল ফোনে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রীকে গাড়ি উপঢৌকন দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুজ্জামান।
গতরাতে টেলিফোনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার কাছে উপঢৌকন হিসেবে গাড়ি নেয়ার ব্যাপারে ঢাকা অফিস থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারও কাছে কোন গাড়ি চাইনি। এখনও আমি আমার পুরনো গাড়ি চালাচ্ছি। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ আসছে সে ব্যাপারে বিসিআইসি’ই ভাল জবাব দিতে পারবে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/05/03/30076
Thursday, 3 June 2010
ঘরে-বাইরে তোপের মুখে এমপি মেনন : দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

01/05/2010
দিলরুবা সুমী
ছাত্রজীবন এবং যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় তিনি ব্যয় করেছেন নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার অতীতের এ উজ্জ্বল অবদানকে ম্লান করে দিয়েছে। এখন নিজ দলের নেতাকর্মীসহ দেশের মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ও বিতর্কিত। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাজোট সরকারের ১৫ মাসে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের পাহাড় জমেছে। বিশেষ করে রাজধানীর দুটি সেরা স্কুল ভিকারুননিসা ও আইডিয়ালে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার ভর্তি-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক সময়কার আদর্শিক নেতা হিসেবে সুপরিচিত বাম ঘরানার অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক আদর্শ ও মূলনীতি থেকে সরে গিয়েছেন বলে তার দলের ভেতর থেকে অভিযোগ উঠেছে। নিজ দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে ডেকে পাঠিয়ে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি নিজ দল থেকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ চলছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বিষয়ে আদালতে মামলা থাকায় আপাতত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। এ মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পরই দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ডেকে সব কথা বলা হবে।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উঠেছে। দুটি সেরা স্কুলে ভর্তি-বাণিজ্য, বহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষক নিয়োগ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে অন্যায়ভাবে অপসারণের চেষ্টা, সভাপতি পদে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও নিয়মিত কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকেও গুরুত্ব সহকারে ছাপাও হয়েছে।
তবে রহস্যজনক বিষয় হলো এতসব অভিযোগ উঠার পরও রাশেদ খান মেনন একেবারেই নিশ্চুপ। এসব অভিযোগের কোনো প্রতিবাদ করেননি। একটি সংবাদ সম্মেলন করেও অভিযোগের কোনো ধরনের জবাব দেননি তিনি। এসব কারণে দলীয়ভাবেও ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন তিনি।
এতসব অভিযোগ উঠার পরও কেন চুপচাপ আছেন জানতে চাইলে এমপি রাশেদ খান মেনন আমার দেশকে বলেন, সময় হলেই সব বলব। এখন কোনো কিছু বলব না। ভিকারুননিসা নূনের অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা চলছে। মামলা শেষ হলেই এ বিষয়ে কথা বলব। এর আগে না।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আমেরিকা থাকার পর ১৭ এপ্রিল দেশে ফেরেন তিনি। এর পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে তলব করা হয়। তার বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চান এবং তাকে সতর্ক করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে তিনি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গেও তার সচিবালয় কার্যালয়ে দেখা করেন।
রাশেদ খান মেনন প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, আমাকে ডেকে পাঠানো হয়নি। অনেকদিন বিদেশে ছিলাম। তাই দেশে এসে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে নিজ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছি। সেখানে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।
দলীয় এক সূত্রে জানা যায়, ভিকারুননিসা নূনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম যদি দায়িত্বে থাকেন তাহলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছেন এমপি রাশেদ খান মেনন।
ভর্তি-বাণিজ্য : রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে রাজধানীর অন্যতম সেরা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ থেকে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানো। স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি। আর সে সুযোগে ভিকারুননিসা ও আইডিয়াল স্কুলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মকাণ্ডে তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী-সাথী, স্ত্রী এবং ছেলেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিকারুননিসার নূনের অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে আমার দেশ-এর কাছে এ অবৈধ ভর্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর স্কুলে নতুন ভর্তির শতকরা ৩৫ ভাগই সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি এ হার বাড়িয়ে ৫০ ভাগ করতে বলেছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার আগে সভাপতি ১৫টি এবং শিক্ষক প্রতিনিধিসহ সব সদস্য প্রত্যেকে সাতটি করে মোট ৭১টি ফরম স্কুল থেকে স্বাক্ষর করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন, যে ঘটনা অতীতে কখনও ঘটেনি। সেই ৭১ ফরমে আবেদন করা সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর সভাপতি রাশেদ খান মেনন কোনো স্বাক্ষর ছাড়া আরও ১৫০ ছাত্রীর তালিকা তৈরি করে পাঠান। এদেরও ভর্তি করা হয়। এর বাইরে টেলিফোনে সুপারিশের ভিত্তিতেও অনেক ছাত্রী ভর্তি করাতে বাধ্য হন তিনি। এসব ভর্তি বাবদ জনপ্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে এমন কথা অধ্যক্ষ শুনেছেন বলে আমার দেশকে জানান।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ঐক্য ফোরামের অভিযোগ অনুযায়ী স্কুলের বর্তমান এডহক কমিটি গত ৭ ফেব্রুয়ারি বনশ্রী শাখায় ৪০০ ও মতিঝিল শাখায় ৬০০ জনসহ মোট ১ হাজার শিক্ষার্থী অবৈধভাবে ভর্তি করেছে। আর শিক্ষার্থী প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে। ওইদিন আমার দেশ-এর সরেজমিন পর্যবেক্ষণেও এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির বর্তমান এডহক কমিটির পদত্যাগও দাবি করা হয়।
নিয়মের বাইরে শিক্ষক নিয়োগ : রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে—এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহির্ভূতভাবে একক সিদ্ধান্তে গভর্নিং বডির সদস্য নিয়োগ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিকারুননিসা নূন কমিটির চার অভিভাবক প্রতিনিধির মধ্যে দু’জনেরই কোনো সন্তান বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে পড়ে না। একজনের মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রার্থী। আর মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন অভিভাবকের মেয়ে একাদশ শ্রেণীতে উঠায় তার সদস্যপদ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বাতিল করেছে। কিন্তু তারপরও তারা পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। একই অবস্থা শিক্ষক প্রতিনিধির ক্ষেত্রেও। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) প্রতিনিধির পদে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের পিএস নাইমুল আজম খানকে নিয়োগ দিয়েছেন মেনন। একইভাবে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি পদেও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি ভিকারুননিসার আজিমপুর শাখায় পিএস নাইমুল আজম খানের স্ত্রীকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইডিয়াল স্কুলের অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০১ সালের পর এখন পর্যন্ত আইডিয়াল স্কুলে কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন হয়নি। এডহক কমিটির মাধ্যমেই স্কুল পরিচালনা হয়ে আসছে। ভুয়া অভিভাবক প্রতিনিধি, একই শিক্ষককে বারবার শিক্ষক প্রতিনিধি করে এ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডার-বাণিজ্য করার জন্যই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে এ কমিটি গঠন করে আসছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্কুলের এডহক কমিটিতে গত বছর জুনে ভুয়া অভিভাবক প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। যাকে নিয়োগ দেয়া হয় তার কোনো সন্তান তখন এ স্কুলে পড়ত না। তাকে বৈধ করার জন্য এবার জানুয়ারিতে তার এক সন্তানকে স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হলেও বিধি অনুযায়ী তিনি অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। আইডিয়াল স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দের ১৬ নভেম্বরের তদন্ত প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মার্চ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম জাতীয় দৈনিকে গভর্নিং বডির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে বিজ্ঞাপন দেন। কিন্তু পরবর্তীকালে এক অভিভাবকের মামলার কারণে হাইকোর্ট থেকে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে বর্তমান এডহক কমিটির মেয়াদ আরও ৪ মাস বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর আগেও আরেক দফায় ৩ মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠনের ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা। বারবার নানা অজুহাতে গভর্নিং বডির নির্বাচন না করার পেছনে বর্তমান এডহক কমিটির হাত আছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা। তাদের এসব অভিযোগ সত্য বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ প্রতিষ্ঠানেরই একাধিক শিক্ষক।
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ অপসারণের চেষ্টা : পাঁচ শতাধিক ছাত্রীকে অবৈধভাবে ভর্তি করার পরও সভাপতির অন্যায় আবদার পূরণ না হওয়ায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমকে অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এমপি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে। চাকরির মেয়াদ আরও প্রায় ১০ মাস থাকা সত্ত্বেও কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তারপর আরও ৬ বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে তার পছন্দমতো একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে ২৫ মার্চ নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব পালন এবং তাকে সহযোগিতা করার জন্য সব শিক্ষক-কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়েছেন মেনন। ২৭ মার্চ এক অফিস আদেশে নতুন অধ্যক্ষাকে সহযোগিতা না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের দিনই অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একমাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেন। হাইকোর্টের রায় নাকি সভাপতির অফিস আদেশ মানবেন তা নিয়ে সে সময় বিভ্রান্তিতে পড়েন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এইচএসসি পরীক্ষার আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগমের অভিযোগ, ভর্তি-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সব চাহিদা পূরণ করতে না পারায় হঠাত্ করে তাকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। নতুন অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ায় ২৬ মার্চ বিকালে টেলিফোনে তাকে রাশেদ খান মেনন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ‘পুলিশ দিয়ে চুলের মুঠি ধরে কলেজ থেকে বের করে দেব’ এমন মন্তব্যও রাশেদ খান মেনন করেন বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার।
দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টির অভিযোগ : অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম বলেন, ভর্তি করা ছাড়া গত প্রায় দু’বছরে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেনি ভিকারুননিসার পরিচালনা কমিটি। তাদের একটাই কাজ ছিল ভর্তি করানো। শিক্ষকদের এখন পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন দেয়া হয়নি। অথচ এ অজুহাতে ছাত্রীদের বেতন বাড়ানো হয়। সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ফি, এপ্রিলের শিক্ষকদের বেতন শিট তৈরি, বিদ্যুত্ বিলসহ শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব কাজই বর্তমানে আটকে আছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রশ্ন তুলেন নিয়মের বাইরে নিয়োগপ্রাপ্ত অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমার সঙ্গে তিনি কেন বৈঠক করতে পারছেন না। তাদের যেমন কোর্টের রায় রয়েছে, আমারও সেই রায় আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছেন সভাপতি মেনন। তিনি অধ্যক্ষকে দিয়ে কোনো ধরনের কাগজপত্রে সই করাতে অফিস সহকারীকে নিষেধ করেছেন বলে অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসা, দলাদলিসহ নানা কারণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের মান যে কমে যাচ্ছে সে বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ সভাপতি হিসেবে রাশেদ খান মেনন নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে।
দলীয়ভাবেও সমালোচিত : নিজের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মেননের দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরাও তার কঠোর সমালোচনা করছেন বলে জানা যায়। একাধিক নেতাকর্মী জানান, মহাজোটের পক্ষে নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় থেকেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মানসিক একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয় তার। সারাদেশের কর্মিসভার ৯০ ভাগ লোকের মতামত উপেক্ষা করে কৌশলে পলিটব্যুরোর অনেক সদস্যের অনুপস্থিতে এক সভায় দলীয় প্রতীক হাতুড়ি মার্কার পরিবর্তে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরবর্তীকালে সংগঠনের আদর্শবিরোধী তার এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের সাবেক পলিটব্যুরো সদস্য হায়দার আকবর খান রণো, আবদুল আজিজ ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুল সাত্তারসহ একাধিক নেতা দল ছেড়ে দেন। তাদের অভিযোগ, রাশেদ খান মেনন ওয়ার্কার্স পার্টির আদর্শ থেকে সরে গেছেন। এমনকি মেননের মতের সঙ্গে মিল না হওয়ায় বিমল বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে যেতে হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত অষ্টম কংগ্রেসের সময় দলে নিজের এজেন্ডগুলো বাস্তবায়ন করতে আদর্শিক ও সাংগঠনিক নেতাদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকজনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।
এদিকে সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ার পর মেনন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি-বাণিজ্যসহ নানা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়েন বলে নিজ দল থেকেও অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে পলিটব্যুরো, জেলা-উপজেলার সবপর্যায়ের কমিটিতে তার কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে। ২৫ এপ্রিল ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির এক বৈঠকে তার এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দু’জন সদস্য লিখিত অভিযোগ করে তা নিয়ে আলোচনার অনুরোধ জানান। জানা যায়, ১০ ও ১১ মে অনুষ্ঠিতব্য পলিটব্যুরোর সভায় এবং পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় মূল এজেন্ডা হিসেবে মেননের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া ১৪ মে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা মহানগর কমিটির সভারও মূল আলোচ্য বিষয় এটাই বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মেননের নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের পেছনেও তার যোগসূত্র রয়েছে বলে দল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।নেতাকর্মীরা জানান, দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পার্টির শতকরা ৯৯ ভাগ কর্মীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব অন্যায় কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্বও দলের কোনো নেতাকর্মী নেবেন না। গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে পার্টির সভাপতি নিয়োজিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দলের ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মীরা। সভাপতির কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা সর্বসম্মতভাবে স্থানীয় সংগঠন বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন বলে জানা যা�
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/05/01/29942
ডিসিসি’র ৭৬ প্রকল্পের কাজ ভাগাভাগি করে নিয়েছে আ’লীগ নেতাকর্মীরা : ঠিকাদারদের অভিযোগ রিটেন্ডার সরকারের আইওয়াশ মাত্র

30/04/2010
মাহমুদা ডলি
ডিসিসি’র প্রায় ৮ কোটি টাকার ৭৬টি প্রকল্পের কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রিটেন্ডারের ওই কাজের ভাগাভাগিতে আবারও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন মহী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ডিসিসি’র একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, অঞ্চল-১/র ওই ৭৬টি প্রকল্পের কাজ আগে যে প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়েছিল ঠিক সেভাবেই কাজ বিতরণ করা হয়েছে। সরকার স্বচ্ছতা প্রকাশের জন্য রিটেন্ডার পুলিশ পাহারা ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে টেন্ডার বাক্স রাখা এগুলো সবই শুধু আইওয়াশ। আগে যেভাবে ওয়ার্ডের এসব কাজ যুবলীগ, তরুণ লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মধ্যে দু-একটি করে ভাগ করা হয়েছিল সেভাবেই রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নগর ভবন ও অঞ্চল-১-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
গতকাল সকালে ডিসিসি’র অঞ্চল-১-এর সায়েদাবাদ অফিসে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, এবার গোপনে নয় প্রকাশ্যেই টেন্ডার বাক্স পাহারা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। টেন্ডার বাক্সে শিডিউল জমা দেয়ার সময় বেলা ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ১১টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ ঠিকাদার শিডিউল জমা দেননি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাধারণ ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে ৬টি শিডিউল জমা দেয় ধলপুরের মেসার্স হায়দার আলী কোম্পানি এবং ডিস্ট্রিলারি রোডের তনিমা এন্টারপ্রাইজ জমা দেয় ৩টি শিডিউল। জমাদানকারী এসব কোম্পানি জানায়, আগেরবারে যখন টেন্ডার হয়েছিল তখন তাদের শিডিউল জমা দেয়ার সুযোগই ছিল না। এবার সাহস করে জমা দিয়েছেন যদি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় তাহলে তারা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসব ঠিকাদার শিডিউল জমা দেয়ার পরপরই ৮৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম অনু ও একই ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা রাজার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মীরা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামানের অফিস কক্ষের সামনে মহড়া দেয়। এ সময় তিনি অফিসেই ছিলেন। এসব নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে গোলাপবাগ তরুণ লীগের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল কোম্পানি ও অমিয় এন্টারপ্রাইজসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা শিডিউল জমা দেন। এ সময় রাজা দৈনিক আমার দেশকে জানান, তিনি নিজে এবং তার পরিচিত ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা শিডিউল জমা দিয়েছেন। কিন্তু এ সময়ে উপস্থিত অন্যান্য ডিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, রাজা এবং আবুল কালাম অনু শিডিউল জমা দেননি শুধু টেন্ডার বাক্স নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটু পর পর মহড়া দিচ্ছেন। কতগুলো শিডিউল জমা করেছেন সে ব্যাপারে কোনোকিছুই জানাতে চাননি অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান। তবে ডিসিসি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আগের প্রক্রিয়া অনুযায়ী মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন মহীর ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ এবং আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ কাজগুলো পেয়েছে। তারা ১৬ পার্সেন্ট কমিশন গ্রহণ করে দলের পছন্দের লোকদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে এবং ডিসিসি’র কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার মধ্যে বিষয়টি গোপন রাখায় সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতারিত হয়েছেন বলেও জানান। এ ব্যাপারে জানার জন্য যুবলীগ নেতা মহীউদ্দিন মহীর ০১৯১৫৬০১৮০৬ নম্বরে ফোন করলে আমার দেশের সঙ্গে কোনো কথাই বলবেন না বলে জানান। বিষয়টি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তার হাতে সময় নেই বলে অফিস রুম থেকে চলে যান। ডিসিসি’র সূত্র জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটের অঞ্চল-১-এর জন্য ৭৬টি প্রকল্পের কাজে ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। দুই মাস আগে প্রথমবারের টেন্ডারের ওই কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে আবেদন করেন ওই অঞ্চলের কমিশনার ও অন্যান্য সাধারণ ঠিকাদার। এ ঘটনায় ডিসিসি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ওই টেন্ডার বাতিল করে দেন এবং রিটেন্ডারের জন্য রেখে দেন। পরবর্তী সময়ে চলতি মাসেই আবার টেন্ডার আহ্বান করলেও তা আইওয়াশ বলে জানান সাধারণ ঠিকাদার।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/30/29731
চট্টগ্রামে এমপির ছেলের বিরুদ্ধে আবারও জমি দখলের অভিযোগ

28/04/2010
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও এলাকায় আবারও অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও আনসারের সহায়তায় এবার তিনি এক নিরীহ ব্যবসায়ীর ৩ কোটি টাকা মূল্যের ২০ গণ্ডা জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমিটি দখলের সময় হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ নিয়ে থানায় গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবার। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা নিয়েছে পুলিশ। মামলা ও হামলার ভয়ে ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এর আগে একই এলাকার প্রবাসী আবু বক্করের একটি জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুজিবুল হক বলেছেন, ক্রয়সূত্রে মালিকানা থাকায় তারা জমির দখল বুঝে নিয়েছেন। কারও জমি তিনি অবৈধভাবে দখল করেননি।
নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার জিকে স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তছকির আহাম্মদ জানান, তার দুই ছোট ভাই মোঃ আজিজ ও আজাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে তিনি ২০০৪ সালে মৌলভী .পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে জিকে স্টিল মিল প্রতিষ্ঠা করেন।
তছকির জানান, গত মাসে তিনি স্টিল মিলের পাশে মরহুম আবুল খায়েরের ছেলে মোঃ ইসহাকের কাছ থেকে ১৩ গণ্ডা এবং মরহুম মফিজুর রহমানের ছেলে হাজি মোঃ কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৭ গণ্ডাসহ মোট ২০ গণ্ডা জমি কিনে নেন। এই জমি কেনার পর থেকে এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান জমিটি দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেন। জমিটি নুরুল ইসলাম বিএসসির সানোয়ারা গ্রুপের কারখানার পেছনে কয়েকশ’ গজ দূরে। দখল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মুজিব প্রথমে জমিটিতে একটি আনসার ক্যাম্প স্থাপন করেন। পরে গত ২২ এপ্রিল দিনের বেলায় তিনি আনসার, পুলিশ ও সানোয়ারা গ্রুপের নিরাপত্তারক্ষীদের সহায়তায় ২০ গণ্ডা জমি অবৈধভাবে দখল করে নেন।
তছকির অভিযোগ করেন, জমি দখলের সময় তারা বাধা দিলে মুজিবের লোকজন আনসার ও পুলিশের সহায়তায় তাদের জিকে স্টিল মিলে হামলা চালায়। এ সময় হামলায় তিনি নিজে এবং তাদের কারখানার ১০/১২ কর্মচারী আহত হন। ঘটনার পর তারা চান্দগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো সানোয়ারা গ্রুপের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশ দু্জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। প্রতিদিনই পুলিশ তাদের হয়রানি করছে।
গতকাল সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সানোয়ারা গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার জমিটি পাহারা দিচ্ছে। সেখানে তারা কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি ঘিরে রেখে নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদক জমিতে গেলে আনসাররা ছবি তুলতে নিষেধ করে। অবশ্য পরে সানোয়ারা গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ছবি তোলার অনুমতি দেয়।
তছকিরের ভাই কুয়েত প্রবাসী মোঃ আজিজ টেলিফোনে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছি। এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে কয়েকশ’ লোক নিয়ে এটা এক ঘণ্টার মধ্যেই দখল করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কুয়েতের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে অভিযোগ করেছি। থানা মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের ব্যাপারে নুরুল ইসলাম বিএসসি এমপির ছেলে সানোয়ারা গ্রুপের ডিরেক্টর জেনারেল মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তছকিরের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। আমরা হারুন নামের একজনের কাছ থেকে ২৪ গণ্ডা জমি কিনেছি। গত ২২ এপ্রিল আমরা কেনা জমি বুঝে নিতে গেলে তছকিরের লোকজন আমাদের আনসার ও নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি।
তিনি বলেন, তছকির যদি জমির প্রকৃত মালিক হয়ে থাকেন তাহলে তিনি দেওয়ানি মামলা করতে পারেন। আইনের পথ তাদের সামনে খোলা রয়েছে। এর আগে একই এলাকার হাজী আবু বক্করের একটি জমি দখল করার যে অভিযোগ উঠেছে সে সম্পর্কে মুজিব বলেন, ওই জমিটিও আমরা বৈধভাবে কিনেছি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/29/29676
ফয়’স লেক কনকর্ড পার্ক অবরোধ আ’লীগ ছাত্রলীগের
28/04/2010
চট্টগ্রাম ব্যুরো
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে চট্টগ্রামের ফয়’স লেকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ৩ মাস ধরে সরকারদলীয় ক্যাডাররা অব্যাহতভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। গতকালও অর্ধ-শতাধিক সন্ত্রাসী ফয়’স লেকের আশপাশে সশস্ত্রভাবে ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সবাই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এর আগে সোমবার ক্যাডাররা কনকর্ডের ৪৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মূল ফটক বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখে। লাঞ্ছিত করে দুই কর্মকর্তাকে। বিনোদন কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি কোনো পর্যটককে। ফলে দেশ-বিদেশ থেকে আসা শত শত পর্যটক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যান। আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর ও আনসার আলীর নেতৃত্বে এই কর্মকাণ্ড চালায় ক্যাডাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে বিনোদন কেন্দ্রের কারপার্কিংয়ের জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপন করে দর্শনার্থীদের গাড়ি রাখায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। প্রায়শই তারা ফয়’স লেকের অভ্যন্তরে বিনা টিকিটে প্রবেশ করে দলবল নিয়ে। কনকর্ড কর্তৃপক্ষ আয়োজিত বিশেষ দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টিকিট ফ্রি হিসেবে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ক্যাডারদের ভয়ে কর্মকর্তারা প্রতিটি অনুষ্ঠানের টিকিট তাদের ফ্রি দিয়ে আসছেন। এসব টিকিট তারা দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করে। তদুপরি দর্শনার্থী তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা ছাড়াও এরা প্রতিনিয়ত ছিনতাই করছে পর্যটকদের। সোমবার উল্লিখিত দুই সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ক্যাডার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিদিনের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ না দিলে তারা পার্ক চলতে দেবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুর্িলশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আছে বিধায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে ঊর্ধ্বতন মহলে সন্ত্রাসীদের তত্পরতার কথা জানানো হয়েছে।
কনকর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ফয়’স লেক এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস স্থাপন করে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29502
চট্টগ্রাম ব্যুরো
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে চট্টগ্রামের ফয়’স লেকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ৩ মাস ধরে সরকারদলীয় ক্যাডাররা অব্যাহতভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। গতকালও অর্ধ-শতাধিক সন্ত্রাসী ফয়’স লেকের আশপাশে সশস্ত্রভাবে ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সবাই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এর আগে সোমবার ক্যাডাররা কনকর্ডের ৪৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মূল ফটক বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখে। লাঞ্ছিত করে দুই কর্মকর্তাকে। বিনোদন কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি কোনো পর্যটককে। ফলে দেশ-বিদেশ থেকে আসা শত শত পর্যটক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যান। আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর ও আনসার আলীর নেতৃত্বে এই কর্মকাণ্ড চালায় ক্যাডাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে বিনোদন কেন্দ্রের কারপার্কিংয়ের জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপন করে দর্শনার্থীদের গাড়ি রাখায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। প্রায়শই তারা ফয়’স লেকের অভ্যন্তরে বিনা টিকিটে প্রবেশ করে দলবল নিয়ে। কনকর্ড কর্তৃপক্ষ আয়োজিত বিশেষ দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টিকিট ফ্রি হিসেবে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ক্যাডারদের ভয়ে কর্মকর্তারা প্রতিটি অনুষ্ঠানের টিকিট তাদের ফ্রি দিয়ে আসছেন। এসব টিকিট তারা দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করে। তদুপরি দর্শনার্থী তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা ছাড়াও এরা প্রতিনিয়ত ছিনতাই করছে পর্যটকদের। সোমবার উল্লিখিত দুই সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ক্যাডার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিদিনের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ না দিলে তারা পার্ক চলতে দেবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুর্িলশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আছে বিধায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে ঊর্ধ্বতন মহলে সন্ত্রাসীদের তত্পরতার কথা জানানো হয়েছে।
কনকর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ফয়’স লেক এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস স্থাপন করে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/28/29502
ঢাবির চার অধ্যাপক চাকরিচ্যুত
27/04/2010
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার দিবাগত রাতে সিন্ডিকেট সভায় এ ৪জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এরশাদুল বারী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান, ব্যবসা প্রশাসন ইন্সটিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. হামিদ উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আমিনুর রহমান। এদের মধ্যে প্রথম দুজন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের নেতা। সিন্ডিকেট বৈঠকে সাদা দলের ৩ সদস্য এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তাদের এই আপত্তি সত্ত্বেও ৪অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া পরবর্তীতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্য সাদা দলের নেতা ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. সদরুল আমিন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক শিক্ষা ছুটির নামে ৮-১০ বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এক বছরেরও কম সময়ে অনুপস্থিত থাকার অজুহাতে ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটা ষড়যন্ত্রমূলক, দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/27/29374
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার দিবাগত রাতে সিন্ডিকেট সভায় এ ৪জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এরশাদুল বারী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান, ব্যবসা প্রশাসন ইন্সটিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. হামিদ উদ্দিন ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আমিনুর রহমান। এদের মধ্যে প্রথম দুজন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের নেতা। সিন্ডিকেট বৈঠকে সাদা দলের ৩ সদস্য এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তাদের এই আপত্তি সত্ত্বেও ৪অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া পরবর্তীতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্য সাদা দলের নেতা ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. সদরুল আমিন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক শিক্ষা ছুটির নামে ৮-১০ বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এক বছরেরও কম সময়ে অনুপস্থিত থাকার অজুহাতে ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটা ষড়যন্ত্রমূলক, দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/27/29374
ঢাকা বিভাগের খাদ্য অধিদফতরে নিয়োগ সমাচার : দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচিত না হওয়ায় ফল বাতিল
27/04/2010
কাদের গনি চৌধুরী
মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি দলের প্রভাবশালীদের দেয়া তালিকা মতো দলীয় লোকদের চাকরি পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা না করায় খাদ্য অধিদফতরের তৃতীয় শ্রেণীর ১০ ক্যাটাগরির শূন্যপদে নিয়োগে ঢাকা বিভাগের পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে দিয়েছে সরকার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সরকারি দলের সঙ্গে জড়িত নন এমন যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে। প্রার্থীদের অনেকে গতকাল খাদ্য অধিদফতর ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে কী হতে যাচ্ছে এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
ঢাকা বিভাগে খাদ্য অধিদফতরের তৃতীয় শ্রেণীর ১০ ক্যাটাগরির শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে মন্ত্রী, এমপি ও স্পিকারের কার্যালয় থেকে চাকরি দেয়ার জন্য প্রচুর তদবির আসে। শুধু টেলিফোনেই নয়, অনেক মন্ত্রী-এমপি ডিও লেটারও পাঠান। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা কোনো তদবিরই আমলে নেননি। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর মন্ত্রী-এমপিরা ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
সূত্র জানায়, মৌখিক পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটির প্রধান থাকার কথা ছিল ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেনের। কিন্তু পরীক্ষা কার্যক্রম যখন শুরু হয় সে সময় ড. শওকত ছিলেন বিদেশে। তাই অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমানকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আরসি ফুড, পিডব্লিউডির এডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, কৃষি অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ও ইডেন কলেজের একজন প্রফেসর। কমিটির সব সদস্য মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে, কোনো চাপের কাছে তারা নত না হয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন। সেভাবেই তারা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ফলাফল তৈরি করেন। এ ফলাফল তৈরির দুইদিন পরই এলপিআরে যান পরীক্ষা কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান। এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেন দেশে ফিরে এলে পরীক্ষার ফলাফল তার হাতে তুলে দেন তারা। এদিকে সরকারের বিভিন্ন মহলের চাপে ওই ফলাফলের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন ড. শওকত হোসেন। এতে বিপাকে পড়ে যায় মন্ত্রণালয়। চাপ আসে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের দাবি হচ্ছে তাদের দলের কারও চাকরি হয়নি। কাজেই এ ফলাফল সঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জের নেতারা অভিযোগ করেন যে, তাদের জেলা থেকে আওয়ামী লীগের যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাদের কারও চাকরি হয়নি। তবে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে যাদের ব্যাপারে অনুরোধ এসেছে তারা সবাই তদবিরে চাকরি হবে এ ব্যাপারে আগে থেকেই শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন। ফলে প্রস্তুতি না নেয়ায় তারা ভাইভা বোর্ডে খুবই খারাপ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এ নিয়োগের ব্যাপারে কোনো প্রভাব না খাটানোর কারণে কমিটি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে ফলাফল তৈরি করে। বিশেষ করে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান এলপিআরে যাওয়ার প্রাক্কালে কোনো অনৈতিক কাজ করতে চাননি। কমিটির অন্য সদস্যরাও তাকে পুরোপুরি সাপোর্ট দেন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেয়ার পরও কমিটি ফলাফল পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি।
খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বিভাগে চাকরি দেয়ার কথা বলে সরকারি দলের লোকেরা প্রচুর ঘুষ নেয়। তাদের তদবিরে কাজ হয়নি জানতে পেরে বিভিন্ন মহলে তারা নানা প্রচারণা চালান। বিশেষ করে তারা সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রচার করতে থাকেন যে, পরীক্ষা কমিটি রাজনৈতিক কারণে ও ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগ সর্মথকদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছে। সরকারের উচ্চ মহলকে এটি তারা বিশ্বাসও করাতে পেরেছেন।
সূত্র জানায়, সারাদেশে খাদ্য অধিদফতরে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। এ বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ করছে কেবল সরকারি দলের লোকেরা। অন্যান্য বিভাগে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা ছাড়া অন্যান্য বিভাগে লোক নিয়োগে ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় সেসব বিভাগের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়নি।
পরীক্ষা কমিটির প্রধান সাবেক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, এখনও আমি সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছি। তাই সংস্থাপন সচিবের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারি না, তবে এতটুকু বলব কমিটি মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান ও গাইড লাইন মেনে অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেন বলেন, এ পরীক্ষা নেয়ার সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফেরার পর প্রচুর অভিযোগ আসে। অভিযোগের কথাসহ আমি ফলাফল পাঠিয়ে দিই মন্ত্রণালয়ে। এরপর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফলাফল বাতিলের। আপনার কাছে অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ এবেবারেই অহেতুক মনে হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে অধিদফতরের ১০টি ভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমবার পে-অর্ডার এবং দ্বিতীয়বার দরখাস্ত খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালে আবার নিয়োগের জন্য দরখাস্ত চাওয়া হয়। পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়। তবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাও বাতিল করা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উদ্যোগ নেয়া হলেও নিয়োগ শেষ করা যায়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুত নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। নতুন করে দরখাস্ত আহ্বানের পরিবর্তে বিগত সময়ে নেয়া আবেদনগুলোর ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা শেষ করা হয়। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় গত বছরের ২৩ অক্টোবর। এর প্রায় দেড় মাস পর দেশের ছয়টি বিভাগে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/27/29366
কাদের গনি চৌধুরী
মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি দলের প্রভাবশালীদের দেয়া তালিকা মতো দলীয় লোকদের চাকরি পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা না করায় খাদ্য অধিদফতরের তৃতীয় শ্রেণীর ১০ ক্যাটাগরির শূন্যপদে নিয়োগে ঢাকা বিভাগের পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে দিয়েছে সরকার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সরকারি দলের সঙ্গে জড়িত নন এমন যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে। প্রার্থীদের অনেকে গতকাল খাদ্য অধিদফতর ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে কী হতে যাচ্ছে এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
ঢাকা বিভাগে খাদ্য অধিদফতরের তৃতীয় শ্রেণীর ১০ ক্যাটাগরির শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে মন্ত্রী, এমপি ও স্পিকারের কার্যালয় থেকে চাকরি দেয়ার জন্য প্রচুর তদবির আসে। শুধু টেলিফোনেই নয়, অনেক মন্ত্রী-এমপি ডিও লেটারও পাঠান। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা কোনো তদবিরই আমলে নেননি। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর মন্ত্রী-এমপিরা ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
সূত্র জানায়, মৌখিক পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটির প্রধান থাকার কথা ছিল ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেনের। কিন্তু পরীক্ষা কার্যক্রম যখন শুরু হয় সে সময় ড. শওকত ছিলেন বিদেশে। তাই অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমানকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আরসি ফুড, পিডব্লিউডির এডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, কৃষি অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ও ইডেন কলেজের একজন প্রফেসর। কমিটির সব সদস্য মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে, কোনো চাপের কাছে তারা নত না হয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন। সেভাবেই তারা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শেষে ফলাফল তৈরি করেন। এ ফলাফল তৈরির দুইদিন পরই এলপিআরে যান পরীক্ষা কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান। এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেন দেশে ফিরে এলে পরীক্ষার ফলাফল তার হাতে তুলে দেন তারা। এদিকে সরকারের বিভিন্ন মহলের চাপে ওই ফলাফলের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেন ড. শওকত হোসেন। এতে বিপাকে পড়ে যায় মন্ত্রণালয়। চাপ আসে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের দাবি হচ্ছে তাদের দলের কারও চাকরি হয়নি। কাজেই এ ফলাফল সঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জের নেতারা অভিযোগ করেন যে, তাদের জেলা থেকে আওয়ামী লীগের যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাদের কারও চাকরি হয়নি। তবে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে যাদের ব্যাপারে অনুরোধ এসেছে তারা সবাই তদবিরে চাকরি হবে এ ব্যাপারে আগে থেকেই শতভাগ নিশ্চিত ছিলেন। ফলে প্রস্তুতি না নেয়ায় তারা ভাইভা বোর্ডে খুবই খারাপ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এ নিয়োগের ব্যাপারে কোনো প্রভাব না খাটানোর কারণে কমিটি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে ফলাফল তৈরি করে। বিশেষ করে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান এলপিআরে যাওয়ার প্রাক্কালে কোনো অনৈতিক কাজ করতে চাননি। কমিটির অন্য সদস্যরাও তাকে পুরোপুরি সাপোর্ট দেন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেয়ার পরও কমিটি ফলাফল পরিবর্তন করতে রাজি হয়নি।
খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বিভাগে চাকরি দেয়ার কথা বলে সরকারি দলের লোকেরা প্রচুর ঘুষ নেয়। তাদের তদবিরে কাজ হয়নি জানতে পেরে বিভিন্ন মহলে তারা নানা প্রচারণা চালান। বিশেষ করে তারা সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রচার করতে থাকেন যে, পরীক্ষা কমিটি রাজনৈতিক কারণে ও ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগ সর্মথকদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করেছে। সরকারের উচ্চ মহলকে এটি তারা বিশ্বাসও করাতে পেরেছেন।
সূত্র জানায়, সারাদেশে খাদ্য অধিদফতরে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগে তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না। এ বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ করছে কেবল সরকারি দলের লোকেরা। অন্যান্য বিভাগে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা ছাড়া অন্যান্য বিভাগে লোক নিয়োগে ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় সেসব বিভাগের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়নি।
পরীক্ষা কমিটির প্রধান সাবেক অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, এখনও আমি সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছি। তাই সংস্থাপন সচিবের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারি না, তবে এতটুকু বলব কমিটি মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান ও গাইড লাইন মেনে অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ড. শওকত হোসেন বলেন, এ পরীক্ষা নেয়ার সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফেরার পর প্রচুর অভিযোগ আসে। অভিযোগের কথাসহ আমি ফলাফল পাঠিয়ে দিই মন্ত্রণালয়ে। এরপর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফলাফল বাতিলের। আপনার কাছে অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ এবেবারেই অহেতুক মনে হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে অধিদফতরের ১০টি ভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমবার পে-অর্ডার এবং দ্বিতীয়বার দরখাস্ত খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালে আবার নিয়োগের জন্য দরখাস্ত চাওয়া হয়। পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়। তবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাও বাতিল করা হয়। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উদ্যোগ নেয়া হলেও নিয়োগ শেষ করা যায়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুত নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। নতুন করে দরখাস্ত আহ্বানের পরিবর্তে বিগত সময়ে নেয়া আবেদনগুলোর ভিত্তিতে ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা শেষ করা হয়। ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় গত বছরের ২৩ অক্টোবর। এর প্রায় দেড় মাস পর দেশের ছয়টি বিভাগে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/27/29366
Subscribe to:
Posts (Atom)